জাপানের জাতীয় পরিবেশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের টোকিও জেরিয়াট্রিক্স ইনস্টিটিউট ও টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথভাবে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কুকুর পালনকারী বয়স্ক ব্যক্তিদের যত্নপ্রয়োজনীয় ডিমেনশিয়া হওয়ার ঝুঁকি 48% কম। গবেষণাটি 2026 সালের জুলাই মাসে International Journal of Environmental Research and Public Health জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং 65–84 বছর বয়সী টোকিওর 11 224 বাসিন্দার তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত, যাদের 2016 থেকে 2023 বছর পর্যন্ত 7,5 বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
অংশগ্রহণকারীদের তিনটি দলে ভাগ করা হয়েছিল: বর্তমানে কুকুর পালনকারী (8,6%), যারা অতীতে কুকুর পালন করেছিলেন (22,6%), এবং যারা কখনও পালন করেননি (68,8%)। পর্যবেক্ষণকালে 1989 জনের (17,7%) যত্নপ্রয়োজনীয় ডিমেনশিয়া দেখা দেয়। ইন্সট্রুমেন্টাল ভেরিয়েবল পদ্ধতি ব্যবহার করে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কখনও কুকুর না পালনকারীদের তুলনায় বর্তমান কুকুর মালিকদের ঝুঁকি 48% কম ছিল (ওডস অনুপাত 0,52)। যারা আগে কুকুর পালন করেছিলেন, তাদের ঝুঁকি প্রায় 25% কমেছিল।
গবেষকরা এই প্রভাবকে তিনটি প্রধান প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। প্রতিদিন কুকুর নিয়ে হাঁটা শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ায় এবং নিয়মিত দৈনন্দিন রুটিন বজায় রাখতে সাহায্য করে। হাঁটার সময় প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কমায়। এছাড়া প্রাণীর সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া, যার মধ্যে চোখে চোখ রাখাও অন্তর্ভুক্ত, অক্সিটোসিন নিঃসরণ উদ্দীপিত করে, যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও মানসিক অবস্থার উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
জাপানে বয়স্ক কুকুর মালিকদের অনুপাত 8,6% থেকে 13,4%-এ বৃদ্ধি পেলে 4 বছরে চিকিৎসা সহায়তা ও যত্নের সামাজিক ব্যয় প্রায় 592 বিলিয়ন ইয়েন কমবে। একই সঙ্গে খাদ্য ও পশুচিকিৎসার জন্য পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় 4,63 ট্রিলিয়ন ইয়েন, তবে বাজেটের জন্য নিট সঞ্চয় উল্লেখযোগ্য থাকবে।
ফলাফল বয়স্কদের মধ্যে জ্ঞানীয় ব্যাঘাত প্রতিরোধে সাধারণ দৈনন্দিন অভ্যাসের সম্ভাবনার উপর জোর দেয়। এই গবেষণায় প্রথমবারের মতো বার্ধক্যজনিত সমাজের প্রেক্ষাপটে কুকুর পালনের কেবল চিকিৎসাগত নয়, অর্থনৈতিক প্রভাবও মূল্যায়ন করা হয়েছে।


