যেকোনো কুকুরই জন্মগতভাবে দক্ষ সাঁতারু—প্রাণিবিদ্যার এই ধারণাটি অন্যতম বিপজ্জনক ভুল বিশ্বাসের একটি। গ্রীষ্মের মরসুমে পশু হাসপাতালগুলোর পরিসংখ্যানে এই মিথের কারণে দুর্ঘটনার শিকার হওয়া প্রাণীদের সংখ্যা নিয়মিতভাবে বাড়ে। প্রকৃতপক্ষে, পানিতে ভেসে থাকার ক্ষমতা সরাসরি নির্ভর করে নির্দিষ্ট প্রজাতির কুকুরের শরীরতত্ত্ব, লোমের ধরন এবং বংশগতির ওপর।

প্রকৃতি কিছু প্রজাতিকে আদর্শ জলচর হিসেবে তৈরি করেছে। নিউফাউন্ডল্যান্ড, ল্যাব্রাডর, পর্তুগিজ ওয়াটার ডগ এবং স্প্যানিয়েলদের পায়ের আঙুলের মাঝে পাতলা পর্দা থাকে এবং এদের শরীরের লোম হয় ঘন ও পানিনিরোধক। তাদের সুষম দেহ এবং ফুসফুসের ধারণক্ষমতা দীর্ঘক্ষণ পানিতে ভেসে থাকতে সাহায্য করে। এই প্রজাতির কুকুরদের জন্য সাঁতার কাটা একটি চমৎকার কার্ডিও ব্যায়াম, যা হাড়ের জোড়ে বাড়তি চাপ না দিয়েই শরীরকে শক্তিশালী করে।
তবে ঝুঁকির মুখে থাকা একটি বড় দলও রয়েছে। বুলডগ, পাগ বা পেকিনিজ কি আদৌ সাঁতরে পার হতে পারবে? চ্যাপ্টা মুখের কুকুর বা 'ব্র্যাকিসেফালিক' প্রজাতির প্রাণীরা তাদের শারীরিক গঠনের কারণে সাঁতার কাটার সময় ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারে না। নাক পানির ওপরে রাখার জন্য তাদের অস্বাভাবিকভাবে মাথা উঁচু করে রাখতে হয়, যার ফলে কুড়ালের মতো তাদের ভারী শরীর মুহূর্তেই নিচে তলিয়ে যায়। ডাকসুন্দ বা কর্গির মতো ভারী হাড়ের খাটো পায়ের কুকুরগুলোও উচ্চ অভিকর্ষ কেন্দ্র এবং সাঁতারের দুর্বল গতির কারণে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
এখানে মনে রাখা জরুরি যে, ইয়র্কশায়ার টেরিয়ার বা মাল্টিজের মতো যেসব কুকুরের পশমের নিচে বাড়তি আস্তরণ নেই, তারা উষ্ণ পানিতেও খুব দ্রুত ঠান্ডায় আক্রান্ত হতে পারে এবং বাসেট হাউন্ডের মতো বড় ও খোলা কানের প্রজাতির ক্ষেত্রে কানের নালীতে পানি জমে মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
যে প্রজাতির কুকুরদের শারীরিক গঠন সাঁতারের উপযোগী নয়, তাদের মালিকদের উচিত পোষা প্রাণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোর করে সাঁতারু বানানোর চেষ্টা থেকে সময়মতো বিরত থাকা। কুকুরদের জন্য তৈরি বিশেষ লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা এই সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে, যা প্রাণীদের ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি ছাড়াই প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার সুযোগ দেয়। নিজের পোষা প্রাণীর শারীরিক সীমাবদ্ধতা বোঝা মানে তার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া নয়, বরং এটি একটি মৌলিক দায়িত্ব যা প্রাণীর জীবন বাঁচায় এবং মালিককে জরুরি অবস্থায় ক্লিনিকে ছোটাছুটি করা থেকে রক্ষা করে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির আনন্দ সম্পর্কে আমাদের নিজস্ব ধারণা কি আমরা প্রাণীদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে তাদের বৈশিষ্ট্যগুলোকে গ্রহণ করতে সক্ষম? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করে পোষা প্রাণীর প্রতি আমাদের আচরণের সংস্কৃতি ও সচেতনতার স্তর।



