ইউনিফাইড স্ট্যান্ডার্ড ২০২৬: বিড়াল ও কুকুর প্রজনন নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতিমালা অনুমোদন দিল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট

লেখক: Svitlana Velhush

ইউনিফাইড স্ট্যান্ডার্ড ২০২৬: বিড়াল ও কুকুর প্রজনন নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতিমালা অনুমোদন দিল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট-1

২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট পোষা প্রাণীদের সুরক্ষা এবং তাদের উৎস শনাক্তকরণ সংক্রান্ত প্রথম ইউরোপীয় নীতিমালা অনুমোদনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে। এর আগ পর্যন্ত ইউরোপে বিড়াল ও কুকুর প্রজননের নিয়মগুলো ছিল অসংলগ্ন; যেমন জার্মানিতে কঠোর আইন থাকলেও দক্ষিণ ইউরোপে অবৈধ 'পাপি মিল' বা বাচ্চা উৎপাদনের কারখানাগুলো বেশ সক্রিয় ছিল। এখন এই মানদণ্ডগুলো অভিন্ন রূপ নিয়েছে এবং এর প্রভাব প্রতিটি মহাদেশেই অনুভূত হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নতুন এই প্রশাসনিক কড়াকড়ি কি অবৈধ বাজার দমনে শেষ পর্যন্ত সফল হবে?

এই নীতিমালার প্রধান দিক হলো একটি ইউরোপীয় ডিজিটাল নেটওয়ার্ক তৈরি করা, যা বিভিন্ন দেশের জাতীয় তথ্যভাণ্ডারগুলোকে একসূত্রে বাঁধবে। ইইউ অঞ্চলের প্রতিটি বিড়াল ও কুকুরের শরীরে এখন থেকে মাইক্রোচিপ থাকা বাধ্যতামূলক। পেশাদার প্রজননকারী, আশ্রয়কেন্দ্র এবং পোষা প্রাণীর দোকানের জন্য এই নিয়ম আগামী চার বছরের মধ্যে কার্যকর হবে। তবে ব্যক্তিগত মালিকদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা বাড়তি সময় দেওয়া হয়েছে; যেমন কুকুরের বাধ্যতামূলক নিবন্ধনের জন্য ১০ বছর এবং বিড়ালের জন্য ১৫ বছর সময় মিলবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি বেওয়ারিশ প্রাণী সমস্যার সম্পূর্ণ নিরসনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন এই আইন মূলত শিল্পের দুটি প্রধান সমস্যা—অবৈধ প্রজননকারী এবং জিনগত বিকৃতি রোধে কাজ করবে। ইনব্রিডিং বা নিকটাত্মীয় প্রাণীর মধ্যে প্রজনন এবং কৃত্রিমভাবে অস্বাভাবিক শারীরিক বৈশিষ্ট্য তৈরি করা (যেমন বুলডগের অতিরিক্ত চ্যাপ্টা মুখ বা চামড়ার ভাঁজ) এখন থেকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর প্রাণীর যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কমিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না, যা অনিবার্যভাবেই এই খাতের গুণগত মান বাড়িয়ে দেবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব কেমন হবে? এর প্রভাব হবে সরাসরি, কারণ নতুন নীতিমালা আমদানির ক্ষেত্রেও অত্যন্ত কঠোর। আপনি যদি ইইউ-র কোনো ক্রেতার কাছে উন্নত জাতের বিড়াল বা কুকুরের ছানা বিক্রি করতে চান, তবে সীমান্ত পার হওয়ার অন্তত পাঁচ কর্মদিবস আগে প্রাণীটিকে চিপযুক্ত এবং ইউরোপীয় ডেটাবেসে নিবন্ধিত হতে হবে। ফলে যেসব দেশ ইউরোপে পোষা প্রাণী রপ্তানি করে, তাদের প্রজনন কেন্দ্রগুলোকে এখন থেকে ব্রাসেলসের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে।

ভেটেরিনারি নিয়ন্ত্রণ, লাইসেন্সিং এবং উন্নত আবাসন ব্যবস্থার খরচ বৃদ্ধির কারণে মধ্যমেয়াদে উন্নত জাতের প্রাণীর দাম বাড়বে। তবে এর বিনিময়ে ক্রেতারা তাদের পোষা প্রাণীর স্বচ্ছ জীবনবৃত্তান্ত এবং কোনো প্রকার জিনগত ত্রুটি না থাকার নিশ্চয়তা পাবেন। রাস্তার মোড়ে ঝুড়িতে করে প্রাণী বিক্রির দিন শেষ হয়ে আসছে; এখন থেকে ডিজিটাল হিসাবরক্ষণ এবং দায়িত্বশীল লালন-পালনই হবে মূল ভিত্তি।

33 দৃশ্য
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।