জাপান প্রথম দেশ হিসেবে GSK কোম্পানির Hibsago (bepirovirsen) ওষুধটি অনুমোদন করেছে। ক্রনিক হেপাটাইটিস B-এর বিরুদ্ধে ফাংশনাল কিউর হিসেবে এটিই বিশ্বের প্রথম কোনো ওষুধের অনুমোদন।
জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় সেইসব প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের জন্য এই অনুমোদন দিয়েছে, যারা অন্তত ছয় মাস ধরে নিউক্লিওসাইড/নিউক্লিওটাইড অ্যানালগ থেরাপি নিচ্ছেন এবং ভাইরাসের নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করেন। এই ওষুধটি মূলত একটি অ্যান্টিসেন্স অলিগোনিউক্লিওটাইড অণু।
এটি bepirovirsen-এর জন্য প্রথম বৈশ্বিক অনুমোদন এবং জাপানে ক্রনিক হেপাটাইটিস B-এর জন্য প্রথম ও একমাত্র ফাংশনাল কিউর। দেশটিতে প্রায় দশ লক্ষ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত এবং প্রতি বছর এর ফলে প্রায় চার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
ওষুধটি SENKU মর্যাদা পাওয়ায় এর অনুমোদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে, যা গুরুতর অপূরণীয় চিকিৎসা চাহিদা মেটাতে সক্ষম উদ্ভাবনী ওষুধগুলোকে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তটি B-Well-এর তৃতীয় পর্যায়ের গবেষণার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে।
এই পরীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব রোগীর HBsAg মাত্রা ≤3000 IU/ml, তাদের মধ্যে bepirovirsen দিয়ে ছয় মাসের চিকিৎসায় 19 % রোগীর ক্ষেত্রে ফাংশনাল কিউর অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তুলনায়, প্রচলিত থেরাপিতে এক বছর চিকিৎসার পর মাত্র 1 % ক্ষেত্রে এমন ফলাফল পাওয়া যায়।
ফাংশনাল কিউর বলতে বোঝায় যে, সব ওষুধ বন্ধ করার পর অন্তত 24 সপ্তাহ পর্যন্ত হেপাটাইটিস B ভাইরাসের DNA এবং সারফেস অ্যান্টিজেন HBsAg শনাক্ত করা যায় না। এক্ষেত্রে রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিজেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করে।
GSK-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা টনি উড উল্লেখ করেছেন যে, এখন জাপানের ক্রনিক হেপাটাইটিস B আক্রান্ত রোগীদের কাছে প্রথমবারের মতো ফাংশনাল কিউরের একটি অনুমোদিত বিকল্প রয়েছে। ছয় মাসের থেরাপির পর রোগীরা আজীবন ওষুধ সেবন থেকে মুক্তি পেতে পারেন এবং লিভারের দীর্ঘমেয়াদী জটিলতার ঝুঁকি কমাতে পারেন।
অবিরাম থেরাপির পরিবর্তে যখন সীমিত সময়ের চিকিৎসার সুযোগ আসবে, তখন রোগীদের দৈনন্দিন জীবন কতটা বদলে যাবে? GSK আগামী মাসগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে bepirovirsen নিবন্ধনের জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা করছে।
এই ওষুধটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও উদ্দীপিত করে এবং ভাইরাসের প্রোটিন উৎপাদন কমিয়ে দেয়। গবেষণায় সবচেয়ে বেশি যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো দেখা গেছে তা হলো ইনজেকশন দেওয়ার স্থানে লালচে ভাব, স্থানীয় ব্যথা এবং লিভার এনজাইমের মাত্রার সাময়িক বৃদ্ধি।

