তিব্বত মালভূমি, যার গড় উচ্চতা ৪,০০০ মিটারেরও বেশি, সেখানে তুষার কেবল শীতের সাদা চাদর হয়েই থাকে না। একটি নতুন গবেষণা দেখাচ্ছে যে, বসন্ত থেকে গ্রীষ্মে উদ্ভিদের ওপর এর প্রভাব নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়: কিছু এলাকায় এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও অন্য জায়গায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে, এবং এই পরিবর্তনটি মালভূমির এক-চতুর্থাংশ এলাকা জুড়ে ঘটে।
বসন্তকালে বিলম্বে বরফ গলার কারণে উদ্ভিদের অঙ্কুরোদগম শুরু হতে দেরি হয়। এর ফলে গাছপালা দেরিতে জেগে ওঠে এবং এই সময়ে তাদের বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকে। বিজ্ঞানীরা বরফ সরে যাওয়ার তারিখ এবং ঋতুচক্রের পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি পর্যবেক্ষণ করেছেন: বরফ যত দেরিতে গলে, সবুজ ঋতু তত বিলম্বে শুরু হয় এবং বসন্তকালীন উৎপাদনশীলতা কমে যায়।
গ্রীষ্মে চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে যায়। বসন্তে যে প্রাথমিক বরফ গলে যাওয়াকে বাধার কারণ মনে হয়েছিল, তা উল্টো প্রভাব ফেলতে শুরু করে। এছাড়া শীতকালে মাটিতে জমে থাকা পানি তপ্ত মাসগুলোতে উদ্ভিদের পুষ্টি যোগাতে সাহায্য করে। ফলস্বরূপ, বসন্তে যে অঞ্চলগুলোতে তুষার বৃদ্ধিতে বাধা দিয়েছিল, গ্রীষ্মে তা-ই আবার সহায়ক হয়ে ওঠে।
গবেষকরা ২০০০–২০১৭ সাল পর্যন্ত তুষারস্তর এবং উদ্ভিজ্জ সূচক (NDVI) সংক্রান্ত উপগ্রহ তথ্য ব্যবহারের পাশাপাশি প্রভাবের ধরনগুলো বুঝতে স্ট্রাকচারাল ইকুয়েশন মডেল প্রয়োগ করেছেন। এতে দেখা গেছে যে, বসন্তকালে ঋতুভিত্তিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া প্রধান ভূমিকা পালন করে, আর গ্রীষ্মে মাটির আর্দ্রতা বেশি কার্যকর থাকে। অধিকাংশ বৈশ্বিক উদ্ভিদ মডেল এখনও এই ঋতুভিত্তিক পরিবর্তনের বিষয়টি সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারছে না।
তিব্বত মালভূমিকে "এশিয়ার পানির টাওয়ার" বলা হয়। এখান থেকেই সেই সব নদ-নদীর উৎপত্তি, যা কোটি কোটি মানুষের জীবন ধারণের উৎস। বিভিন্ন ঋতুতে তুষার কীভাবে ঘাস ও গুল্মের ওপর প্রভাব ফেলে তা বুঝতে পারলে এই অঞ্চলের সবুজায়ন এবং পানির ভারসাম্যের পরিবর্তন সম্পর্কে আরও নিখুঁত পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে।


