2024 সালের ডিসেম্বরে, ওয়েডেল সাগরে SuBastian নামক ডুবোজাহাজ নিয়ে কাজ করা গবেষকরা একটি অদ্ভুত দৃশ্য লক্ষ্য করেন: অ্যান্টার্কটিক ক্রিলের ছোট ছোট দল সমুদ্রতলের খনিজ ফাটলের পাশ দিয়ে সক্রিয়ভাবে চলাচল করছিল। পৃষ্ঠস্থ পানিতে অভ্যস্ত এই ক্ষুদ্র ক্রাস্টেসিয়ানদের হাইড্রোথার্মাল ভেন্টের কাছে 900 মিটারেরও বেশি গভীরে দেখা মিলবে, তা কেউ আশা করেননি।
সংগৃহীত সব নমুনাই ছিল ডিমযুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী ক্রিল। তাদের পেটের содержимое বিশ্লেষণে দেখা যায়, তারা কেমোসিন্থেটিক অণুজীব খেয়েছিল — এমন ব্যাকটেরিয়া, যারা সূর্যালোক থেকে নয়, বরং ভেন্ট থেকে নির্গত রাসায়নিক যৌগ থেকে শক্তি পায়। মাইক্রোবায়োম, আইসোটোপ গঠন এবং টিস্যুতে ক্ষুদ্র উপাদানের পরিমাণ নিয়ে গবেষণাও এই তথ্যকে সমর্থন করেছে।
আগে মনে করা হতো, ক্রিল মূলত পানির উপরের 300 মিটারে বাস করে এবং ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন খায়। এখন জানা যাচ্ছে, প্রজননক্ষম স্ত্রী ক্রিল উল্লেখযোগ্য গভীরে নামতে পারে, যেখানে সারা বছর খাদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ — ম্যাঙ্গানিজ, দস্তা ও লোহা — পাওয়া যায়, যা ভ্রূণের বিকাশের জন্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে টিস্যুতে সিসা ও ক্যাডমিয়ামের মতো বিষাক্ত ধাতুও পাওয়া গেছে।
2026 সালের সেপ্টেম্বরে Communications Biology জার্নালে প্রকাশিত এই আবিষ্কার ক্রিলের জীবনচক্র সম্পর্কে ধারণা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করে। কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীরা ধরে নিয়েছিলেন, ডিম পাড়া ঘটে পৃষ্ঠস্তরে; এখন গভীর পানিতে ডিম পাড়া বা অন্তত তার প্রস্তুতির সম্ভাবনাও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।
অ্যান্টার্কটিক ক্রিল দক্ষিণ মহাসাগরের খাদ্যজালের ভিত্তি, যা তিমি, সিল, পেঙ্গুইন ও মাছকে টিকিয়ে রাখে। এছাড়া কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশনেও এর ভূমিকা রয়েছে। স্ত্রী ক্রিল যদি সক্রিয়ভাবে হাইড্রোথার্মাল আবাসস্থল ব্যবহার করে, তবে তা এই প্রজাতির বাস্তুবিদ্যা সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়া বদলে দেয় এবং সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা পরিকল্পনার সময় এমন অঞ্চল বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন করে তোলে।
যেসব হাইড্রোথার্মাল ভেন্টে সালোকসংশ্লেষণ ছাড়াই জীবন টিকে আছে, সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে জীববিজ্ঞানীদের বিস্মিত করে আসছে। এখন সেখানে আরও একটি দিক যোগ হলো: প্রজননকালে এগুলো দক্ষিণ মহাসাগরের এক প্রধান প্রজাতির জন্য এক ধরনের «খাবার ঘর» হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি প্রমাণ করে, গভীর পানির বাস্তুতন্ত্র এবং পৃষ্ঠস্তরের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সম্পর্কে আমরা কত কম জানি।
গবেষণাটি National Geographic ও Rolex Perpetual Planet Ocean Expedition অভিযানের অংশ হিসেবে Schmidt Ocean Institute-এর অংশগ্রহণে পরিচালিত হয়। লেখকরা আরও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যাতে বোঝা যায় এই আচরণ কতটা ব্যাপকভাবে বিস্তৃত।
এই আবিষ্কার দেখায়, বিজ্ঞানীরা স্বাভাবিকের চেয়ে গভীরে নামলে সুপরিচিত প্রজাতিও বিস্ময় উপহার দিতে পারে।


