নর্দমার নদীতে ডলফিন: বাংলাদেশের বিষাক্ততা

সম্পাদনা করেছেন: Svitlana Velhush

ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদী বহু আগেই কারখানা ও বর্জ্যের নর্দমায় পরিণত হয়েছে, যেখানে অক্সিজেন প্রায় নিঃশেষ হয়ে যায় এবং ভারী ধাতু পলিতে জমা হয়। তবুও এখানে, সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, প্রায় বিশটি গাঙ্গেয় নদী ডলফিন টিকে আছে।

সেপ্টেম্বর 2023 থেকে আগস্ট 2024 বছর পর্যন্ত 27 কিলোমিটার এলাকায় চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাণীরা বছরের বারো মাসের মধ্যে দশ মাস নদীতে উপস্থিত ছিল। সবচেয়ে বেশি দেখা মিলেছে শীতকালে, আর শাবকের অনুপাত ছিল প্রায় ষোলো শতাংশ — যা প্রজনন অব্যাহত থাকার লক্ষণ।

স্থানীয় মাছ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে, কিন্তু বেড়ে উঠেছে আক্রমণকারী শিং মাছ, যারা বায়ুমণ্ডলীয় বাতাস শ্বাস নিতে পারে। গবেষকদের মতে, ডলফিনেরা ঠিক এই মাছগুলোই খায়, আর এমন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে যা বেঁচে থাকার অযোগ্য বলে মনে হয়।

নদীর দূষণ চামড়ার কারখানা, বস্ত্রশিল্প ও গৃহস্থালি বর্জ্য নিঃসরণের ফল। ক্রোমিয়াম, সীসা ও ক্যাডমিয়ামের ঘনত্ব নিয়মিত নিরাপদ মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, আর শুষ্ক মৌসুমে দ্রবীভূত অক্সিজেন প্রায় শূন্যে নেমে আসে। এমন পরিস্থিতি অধিকাংশ জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক, কিন্তু ডলফিনেরা এখনও টিকে থাকার উপায় খুঁজে নিচ্ছে।

দেশব্যাপী সাম্প্রতিক এক গণনায় বাংলাদেশের পঁয়তাল্লিশটি নদীতে দুই হাজারেরও বেশি গাঙ্গেয় নদী ডলফিন নথিভুক্ত হয়েছে। তবে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের মতো অত্যন্ত দূষিত জলধারায় তাদের সংখ্যা কমই থাকে, আর হুমকিও স্থায়ী: অবৈধ জাল, নিবিড় নৌচলাচল এবং চলমান দূষণ।

এই জনগোষ্ঠী সংরক্ষণের জন্য সবার আগে প্রয়োজন শিল্প বর্জ্য নিঃসরণ কমানো এবং ক্ষতিকর মাছ ধরার যন্ত্র নিষিদ্ধ করা। এই পদক্ষেপ ছাড়া ডলফিনের আশ্চর্য অভিযোজন ক্ষমতাও যথেষ্ট নাও হতে পারে।

4 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Against the odds, endangered dolphins survive in Bangladesh’s polluted river

মন্তব্য

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।