প্রাইমেটস (Primates) সাময়িকীতে 18 আগস্ট 2026 সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, পোষা প্রাণী রাখার মতো আচরণের শিকড় প্রাইমেটদের বিবর্তনের গভীরে প্রোথিত। বিজ্ঞানীরা 88 প্রজাতির প্রাইমেটদের মধ্যে 427টি আন্তঃপ্রজাতি মিথস্ক্রিয়া বিশ্লেষণ করেছেন এবং দেখেছেন যে প্রতিটি প্রজাতির মধ্যেই এমন আচরণ বিদ্যমান যা মানুষের পোষা প্রাণীর যত্নের মতো অন্যান্য প্রাণীর যত্ন নেওয়ার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।
একটি বিশেষ উজ্জ্বল উদাহরণ হলো থাইল্যান্ডের স্টাম্প-টেইলড ম্যাকাকদের দল, যারা নিয়মিতভাবে স্থানীয় কুকুরদের লোম পরিষ্কার করে ও তাদের যত্ন নেয়। বিজ্ঞানীরা এই ধরনের মিথস্ক্রিয়া বারবার পর্যবেক্ষণ করেছেন: ম্যাকাকরা কুকুরদের কাছে যায়, তাদের লোম পরিষ্কার করে এবং কোনো আগ্রাসন না দেখিয়ে পাশে সময় কাটায়। উগান্ডায় শিম্পাঞ্জিদের মধ্যেও অনুরূপ ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যারা স্নেহের সাথে রেড-টেইলড মাঙ্কি বা লাল-লেজওয়ালা বানরের লেজ আঁচড়ে দিচ্ছিল।
অন্যান্য প্রজাতির প্রতি প্রাইমেটদের এই আচরণ বিবর্তনীয় সুবিধা সম্পর্কে আগের ধারণাগুলোকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। ওয়েস্টার্ন ক্যারোলিনা ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী হ্যাল হারজোগ যেমনটি উল্লেখ করেছেন, অন্য প্রজাতির প্রাণীদের জন্য সম্পদ ব্যয় করা আপাতদৃষ্টিতে অলাভজনক মনে হলেও এটি সর্বত্র দেখা যায়। গবেষকরা ধারণা করছেন যে, মানুষসহ প্রাইমেটদের মধ্যে অন্যান্য জীবন্ত প্রাণীর যত্ন নেওয়ার ইচ্ছাটি সহজাত হতে পারে।
এর আগে গরিলা কোকো এবং তার বিড়ালছানার মতো ঘটনাগুলো পরিচিত ছিল, তবে নতুন এই কাজটি অনেক প্রজাতির তথ্যকে সুশৃঙ্খলভাবে উপস্থাপন করেছে। এই আচরণ সাধারণ গ্রুমিং বা লোম পরিষ্কার থেকে শুরু করে দীর্ঘস্থায়ী মিথস্ক্রিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে এবং এমনকি অল্পবয়সী প্রাণীদের মধ্যেও এটি লক্ষ্য করা গেছে।
গবেষণার ফলাফলগুলো মানুষ কেন পোষা প্রাণী রাখে এবং বিবর্তনের ধারায় এই আচরণ কীভাবে উদ্ভূত হতে পারে তা আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে। এটি দেখায় যে, অন্যান্য প্রজাতির যত্ন নেওয়া কেবল হোমো সেপিয়েন্সের (Homo sapiens) অনন্য বৈশিষ্ট্য নয়, বরং এটি প্রাইমেটদের আরও প্রাচীন একটি বৈশিষ্ট্য।


