হাঙ্গেরির ইওটভোস লোরান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা, এথোলজিস্ট ক্লাউদিয়া ফুগাজ্জার নেতৃত্বে, 2026 সালের জানুয়ারিতে Science সাময়িকীতে একটি চাঞ্চল্যকর গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছেন। দেখা গেছে যে, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বিশেষভাবে মেধাবী কুকুরদের একটি ছোট দল কেবল তাদের মালিকদের কথোপকথন শুনেই নতুন বস্তুর নাম মনে রাখতে সক্ষম — ঠিক যেমনটি 18–23 মাস বয়সী ছোট শিশুরা করে থাকে। এই পরীক্ষায় 20টি বর্ডার কোলি অংশ নিয়েছিল: তাদের মধ্যে 10টি ছিল তথাকথিত "মেধাবী শিক্ষার্থী" নামক বিরল দলের অন্তর্ভুক্ত, যারা শত শত বস্তুর নাম মনে রাখতে সক্ষম, আর বাকিরা ছিল নিয়ন্ত্রণ গ্রুপের সদস্য। গবেষণার প্রধান লেখক ডক্টর শানি দ্রোর উল্লেখ করেছেন যে, মানুষের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া শুনে কুকুরদের শব্দ শেখার ক্ষমতা বৈজ্ঞানিকভাবে নথিভুক্ত করার ঘটনা এটিই প্রথম।
পরীক্ষাটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মালিকরা তাদের হাতে নতুন খেলনা — যেমন একটি রশ্মি মাছ বা আর্মাডিলো — ধরে রাখতেন এবং একজন সহকারীর সাথে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করতেন, যেখানে কুকুরের উপস্থিতিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হতো: তারা প্রাণীর দিকে তাকাতেন না বা তাকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলতেন না। এরপর কুকুরটিকে পাশের ঘরে পাঠানো হতো, যেখানে পরিচিত খেলনাগুলোর মধ্যে নতুন বস্তুগুলো রাখা থাকত এবং তাকে ঠিক সেই বস্তুটি নিয়ে আসতে বলা হতো যেটির কথা সে শুনেছে। ফলাফল বিজ্ঞানীদের অবাক করে দিয়েছে: মেধাবী কুকুরগুলো প্রায় 80–90 শতাংশ নির্ভুলতার সাথে সঠিক বস্তুটি বেছে নিয়েছিল — যা সরাসরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শেখার ফলাফলের প্রায় সমান।
শব্দ এবং দৃশ্যমান বস্তুর মধ্যে সাধারণ সংযোগের সম্ভাবনা বাদ দিতে গবেষকরা কাজটিকে আরও কঠিন করে তোলেন। খেলনাটি একটি অস্বচ্ছ পাত্রে লুকিয়ে রাখা হতো এবং বস্তুর নামটি কেবল তখনই উচ্চারণ করা হতো যখন কুকুরটি সেটি আর দেখতে পাচ্ছিল না। প্রত্যক্ষ দর্শন এবং নামকরণের মধ্যে এই ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও, মেধাবী কুকুরগুলো নির্ভুলভাবে সঠিক জিনিসটি খুঁজে বের করা চালিয়ে গেছে। এটি প্রমাণ করে যে তারা দৃশ্যমান বস্তুর সাথে সরাসরি সংযোগ ছাড়াই ভাষাকে বিমূর্তভাবে গ্রহণ করে — এমন একটি প্রক্রিয়া যা আগে কেবল মানুষ এবং সম্ভবত বনমানুষদের একচেটিয়া বৈশিষ্ট্য বলে মনে করা হতো।
অল্প কিছুদিন আগে পর্যন্ত ধারণা করা হতো যে, আড়ি পেতে শোনার মাধ্যমে জটিল সামাজিক শিক্ষা কেবল মানুষের শিশু, তোতাপাখি এবং প্রাইমেটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এখন দেখা যাচ্ছে যে কুকুরদের — অন্তত তাদের মধ্যে কয়েকজনের — একই ধরনের জ্ঞানীয় ক্ষমতা রয়েছে। দ্রোর জোর দিয়ে বলেন যে, এই আবিষ্কারটি বিবর্তনের ধারায় সামাজিক-জ্ঞানীয় প্রক্রিয়াগুলো কীভাবে বিকশিত হয়েছে এবং প্রাণীরা মানুষের কথাকে কীভাবে গ্রহণ করে সে সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়াকে আরও বিস্তৃত করে। গবেষক উল্লেখ করেন, "আমাদের ফলাফলগুলো দেখায় যে, আড়ি পেতে শোনা কথা থেকে শব্দ শেখার অনুমতি দেয় এমন সামাজিক-জ্ঞানীয় প্রক্রিয়াগুলো কেবল মানুষের জন্য অনন্য নয়।"
তবে এটি জোর দিয়ে বলা গুরুত্বপূর্ণ যে: এই বিরল ক্ষমতাটি কেবল অল্প সংখ্যক কুকুরের মধ্যেই বিকশিত হয়েছে, বিশেষ করে বর্ডার কোলি এবং কিছু কর্গির মতো নির্দিষ্ট প্রজাতির মধ্যে। সাধারণ কুকুরদের এই দক্ষতা নেই এবং এটি নিশ্চিত করে যে আড়ি পেতে শোনার মাধ্যমে সামাজিক শিক্ষা একটি নিয়মের চেয়ে বরং ব্যতিক্রম হিসেবেই রয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও, এই আবিষ্কারটি দেখায় যে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের পাশে থাকা কুকুররা ভাষা উপলব্ধি এবং সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে অসাধারণ ক্ষমতা অর্জন করেছে।
গবেষণাটির ব্যবহারিক গুরুত্বও রয়েছে। এটি প্রদর্শন করে যে পোষা প্রাণীর চারপাশের ভাষাগত পরিবেশকে সমৃদ্ধ করা — অর্থাৎ কুকুরের উপস্থিতিতে স্বাভাবিক কথাবার্তা বলা — তার ভাষাগত দক্ষতার বিকাশে সহায়তা করতে পারে, যদি তার মধ্যে প্রয়োজনীয় জ্ঞানীয় ক্ষমতা থাকে। একই সাথে, এই ফলাফলগুলো বিজ্ঞানীদের সেই নিউরোবায়োলজিকাল প্রক্রিয়াগুলো আরও গভীরভাবে অধ্যয়ন করতে উৎসাহিত করে, যা এই অনন্য প্রাণীদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে মানুষের কথা থেকে অর্থ উদ্ধার করতে সক্ষম করে।



