যুক্তরাষ্ট্র ও বুলগেরিয়ার মধ্যে ভিসা-মুক্ত যাতায়াত সংক্রান্ত আলোচনা এখন উচ্চপর্যায়ের সরাসরি কূটনীতির পর্যায়ে পৌঁছেছে। বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে এক ফোনালাপে বালকান দেশটিকে 'ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রাম' (VWP)-এর অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। সোফিয়া আশা করছে যে এই পদক্ষেপটি দ্রুততার সাথে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু এই উদ্যোগের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে এবং বুলগেরীয় নাগরিকরা 'এসটা' (ESTA) পদ্ধতির মাধ্যমে আমেরিকায় যাওয়ার কতটা কাছাকাছি রয়েছেন?

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার সময়েই এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বর্তমানে ন্যাটো সদস্য হিসেবে বুলগেরিয়া সোফিয়াতে মার্কিন সামরিক বিমানের ট্রানজিট এবং জ্বালানি ভরার সুবিধা প্রদান করছে। স্পষ্টতই, সোফিয়া তাদের এই মিত্রসুলভ প্রতিশ্রুতিগুলোকে নাগরিকদের জন্য দৃশ্যমান অর্থনৈতিক ও মানবিক সুবিধায় রূপান্তর করতে আগ্রহী।

মার্কিন 'ভিসা-মুক্ত' সুবিধার পথে প্রধান বাধা হলো মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কঠোর আইনি শর্ত, যেখানে পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসার (বি ক্যাটাগরি) আবেদন প্রত্যাখানের হার মোট আবেদনের ৩ শতাংশের নিচে থাকতে হয়। বুলগেরিয়া এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে: তাদের ভিসা প্রত্যাখানের হার কমে এখন ঐতিহাসিক ৫.১১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তুলনামূলকভাবে, মাত্র কয়েক বছর আগেও এই হার ১১ শতাংশের বেশি ছিল। বর্তমান এই ইতিবাচক ধারা এবং সরকারের পক্ষ থেকে শুরু করা তথ্য অভিযান কি শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ৩ শতাংশের বাধা অতিক্রম করতে সাহায্য করবে?
ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হতে পারলে ভবিষ্যতে আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলের ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং অ্যাকাডেমিক বিনিময় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বুলগেরীয় ব্যবসায়ীদের জন্য এর অর্থ হলো প্রশাসনিক খরচ কমে আসা এবং মার্কিন বাজারে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ পাওয়া। প্রতিবেশী রোমানিয়া ইতিমধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভিসা-মুক্ত মর্যাদা লাভ করায়, সোফিয়ার কাছে ওয়াশিংটনের সাথে এই চুক্তি চূড়ান্ত করা এখন কেবল যাতায়াতের বিষয় নয়, বরং আঞ্চলিক মর্যাদারও প্রশ্ন।




