দাগেস্তানে বন্য বিড়ালের দুটি বিরল উপপ্রজাতি—ককেশীয় খাগড়া বিড়াল ও ককেশীয় বন বিড়াল—নিয়ে গবেষণার নতুন পর্যায় শুরু হচ্ছে। কিজলিয়ার উপসাগর ও আগ্রাখান অভয়ারণ্যে আরও বিশটি ফটোফাঁদ স্থাপন করা হবে, যা ‘সামুরস্কি’ জাতীয় উদ্যানে ইতিমধ্যে কাজ করা ক্যামেরাগুলোকে সম্পূরক করবে।
এই প্রাণীরা গোপন জীবনযাপন করে, তাই তাদের সংখ্যা ও বিস্তার সম্পর্কে সঠিক তথ্য সীমিতই রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রটিতে প্রায় একশো বন বিড়াল এবং সর্বাধিক তিনশো পঞ্চাশটি খাগড়া বিড়াল বাস করে। নতুন ক্যামেরাগুলো প্রাকৃতিক ও মনুষ্যজনিত কারণের প্রভাবে তাদের বিস্তার অঞ্চল কীভাবে বদলাচ্ছে তা স্পষ্ট করতে সহায়তা করবে।
প্রকল্পটি ‘প্রিরোদা ই লিউদি’ ফাউন্ডেশন ‘ম্যাগনিট’ কোম্পানির সহায়তায় দাগেস্তান সংরক্ষণাগারের সঙ্গে মিলে বাস্তবায়ন করছে। প্রথম পর্যায় শুরু হয়েছিল 2025 সালের আগস্টে সামুর বদ্বীপে, যেখানে চোদ্দোটি ফাঁদ ইতিমধ্যে বিড়াল পরিবারের প্রতিনিধি ও অন্যান্য বন্য প্রাণী শনাক্ত করেছে। এখন গবেষণা ইউনেস্কোর বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ ‘কিজলিয়ার উপসাগর’ এবং আগ্রাখান অভয়ারণ্য পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
এখানকার বাসস্থানের পরিস্থিতি লক্ষণীয়ভাবে বদলে যাচ্ছে। কাস্পিয়ান সাগরের জলস্তর কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ জলাশয়গুলো বিলুপ্ত হয়েছে এবং উপসাগরগুলোর জলভাগ সংকুচিত হয়েছে। মুক্ত হওয়া এলাকাগুলোতে নলখাগড়ার ঝোপ, তৃণভূমি ও মরুভূমির জীবসম্প্রদায় গড়ে উঠছে, যা বিড়ালদের খাদ্যভিত্তি ও আশ্রয়ের প্রাপ্যতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে।
ফটোফাঁদ ছাড়াও প্রকল্পটিতে বন্য বিড়াল ও মানুষের মধ্যে সংঘাত কমানোর ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত সচেতনতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকরা ইতিমধ্যে আশপাশের জনবসতিগুলোতে পাঁচশোরও বেশি শিশুর জন্য পাঠ পরিচালনা করেছেন, যেখানে বিরল প্রাণীর মুখোমুখি হলে কী আচরণ করতে হবে তা জানানো হয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচি নতুন অঞ্চলগুলোতেও চলবে।
পর্যবেক্ষণ সম্প্রসারণ কেবল অনুপস্থিত তথ্য সংগ্রহই নয়, বদলে যাওয়া জলবায়ু ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিস্থিতিতে আবাসস্থল সংরক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট সুপারিশ প্রণয়নও সম্ভব করে তোলে।


