2026 সালের জুন মাসে পাপুয়া নিউ গিনির সেপিক নদীতে স্থানীয় জেলে হেলেন আসু দুটি ছোট মাছ ধরেছিলেন, যা বিজ্ঞানীরা প্রায় চল্লিশ বছর ধরে দেখেননি।
মিঠাপানির সুই-মাছ Microphis spinachioides — একটি সরু সবুজ-বাদামি মাছ, যার দৈর্ঘ্য 15 সেন্টিমিটার পর্যন্ত, সামুদ্রিক ঘোড়ার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। এটি দেশের দীর্ঘতম নদীর তীরে জলজ লিলির মধ্যে লুকিয়ে থাকে এবং লম্বা মুখ দিয়ে ছোট শিকার খায়।
শেষ নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক নমুনাটি 1985 সালের, এবং একমাত্র জাদুঘরের নমুনাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ধ্বংস হয়ে যায়। প্রজাতিটিকে 'হারানো' বলে মনে করা হতো এবং এটি সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মিঠাপানির মাছের তালিকায় ছিল।
অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন পাপুয়া নিউ গিনির ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির গবেষক জেরিকা আগেবিগো। দুই সপ্তাহ ধরে দলটি নদীতে ভ্রমণ করে বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তাদের ছবি দেখায়। আশা প্রায় নিভে এসেছিল।
18 জুন হেলেন আসু চিংড়ি ধরার সময় ঐতিহ্যবাহী উম্বেন জাল দিয়ে ধরা মাছ নিয়ে আসেন। মাছ দুটি ঠিক সেই প্রজাতির ছিল যা খোঁজা হচ্ছিল। তাদের ছবি তোলা হয় এবং বিশেষজ্ঞ জেরাল্ড অ্যালেনের কাছে নিশ্চিতকরণের জন্য পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা মাছটিকে বিভিন্ন নামে চিনত: কারুভেং, ইনাপ, কারুভেনাই বা লন নুস। মহিলারা যারা নিয়মিত তীরে চিংড়ি ধরেন, তারা পুরুষদের চেয়ে বেশি লক্ষ্য করতেন। তারা জানান, সুই-মাছ নদীর চর এবং উপনদীতে পাওয়া যায়, কিন্তু হ্রদ ও জলাভূমিতে বিরল।
বাসিন্দারা পরিবর্তনও লক্ষ্য করেছেন: পলি থেকে ক্রমবর্ধমান ঘোলাত্ব এবং বিদেশি মাছের প্রজাতির আবির্ভাব। এই পর্যবেক্ষণগুলি সেপিকের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রের জন্য হুমকি নির্দেশ করে।
আবিষ্কারটি দেখিয়েছে যে প্রজাতির পাশে বসবাসকারী মানুষের দৈনন্দিন জ্ঞান কত মূল্যবান। তাদের ছাড়া বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান আরও কয়েক দশক চলতে পারত।
এখন গবেষকরা মাঠের কাজ, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান এবং পরিবেশগত ডিএনএ বিশ্লেষণের মতো পদ্ধতি একত্রিত করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে বোঝা যায় সুই-মাছ আর কোথায় বাস করে এবং কীভাবে তার আবাস রক্ষা করা যায়।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং স্থানীয়দের অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ শুধু এই নয়, অন্যান্য 'হারানো' মিঠাপানির মাছ সংরক্ষণের পথ খুলে দেয়।
