ভীমরুল প্রকৃত বোলতা পরিবারের অন্তর্গত এবং এদের উপ-পরিবারের মধ্যে সর্ববৃহৎ। ইউরোপীয় ভীমরুল (Vespa crabro) দৈর্ঘ্যে ৩-৪ সেমি পর্যন্ত হয়, আর এশীয় বিশালাকায় ভীমরুল (Vespa mandarinia) ৫-৬ সেমি পর্যন্ত লম্বা এবং এদের ডানার বিস্তার প্রায় ৭-৮ সেমি হয়। সাধারণ বোলতা এবং ‘ইয়েলো জ্যাকেট’ বা হলুদ বোলতার তুলনায় এরা আকারে অনেক বড়।
ভীমরুল বাগানের জন্য দারুণ সহায়ক হিসেবে কাজ করে। এরা শুঁয়োপোকা, মাছি, মাকড়সা এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক পোকা শিকার করে তাদের লার্ভাদের খাওয়ায়। পূর্ণবয়স্করা সাধারণত ফুলের মধু, গাছের রস এবং পাকা ফল খেয়ে বেঁচে থাকে। এভাবে তারা একদিকে যেমন পরাগায়নে সহায়তা করে, তেমনি ক্ষতিকর পোকামাকড়ের জনসংখ্যাও নিয়ন্ত্রণ করে।
ভীমরুল মূলত একটি সামাজিক পতঙ্গ। বসন্তকালে রানি ভীমরুল কাঠ চিবিয়ে এবং তার সাথে লালা মিশিয়ে এক ধরনের মণ্ড তৈরি করে বাসা বানাতে শুরু করে। এদের বাসাগুলো ফুটবল বা তার থেকেও বড় হতে পারে এবং ১০টি স্তর পর্যন্ত থাকতে পারে; এগুলো সাধারণত গাছের খোঁড়ল, ছাদের নিচে বা অন্য কোনো সুরক্ষিত স্থানে দেখা যায়। একটি বাসায় ঢোকার জন্য সাধারণত একটিই পথ থাকে।
ভীমরুলদের নিয়ে নেতিবাচক সুনাম থাকলেও ইউরোপীয় ভীমরুলরা বেশ শান্ত স্বভাবের এবং বাসার বাইরে তারা খুব কমই আক্রমণ করে। তারা শুধুমাত্র নিজেদের কলোনি বা বাসা রক্ষা করতেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। পুরুষ ভীমরুলদের কোনো হুল থাকে না এবং তারা অত্যন্ত ধীরস্থির প্রকৃতির হয়।
শক্তিশালী হুল এবং বিষ
- স্ত্রী ভীমরুলদের হুল মসৃণ হওয়ায় তারা মৌমাছির মতো মারা না গিয়ে বারবার হুল ফোটাতে পারে।
- এদের বিষে অ্যাসিটাইলকোলিন থাকে, যার কারণে ভীমরুলের কামড় সাধারণ বোলতার চেয়ে অনেক বেশি যন্ত্রণাদায়ক হয়। একটি বিশালাকায় ভীমরুল প্রতি মিনিটে ৩০-৪০টি মৌমাছি মেরে ফেলতে সক্ষম।
বোলতার সাথে পার্থক্য
অন্যান্য বোলতার তুলনায় ভীমরুলদের মাথার উপরিভাগ বা ‘চাঁদি’ আনুপাতিকভাবে অনেক বড়। উত্তর আমেরিকার অনেক ‘ভীমরুল’ (যেমন: বল্ড-ফেসড হর্নেট) আসলে হলুদ বোলতার অন্তর্ভুক্ত হলেও দেখতে তারা অবিকল ভীমরুলের মতোই।
ভীমরুল বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যদিও এদের বিশাল আকার এবং কামড়ের কারণে মানুষ এদের ভয় পায়। তাদের বাসায় বিরক্ত না করাই ভালো, সেক্ষেত্রে সাধারণত তারা কোনো সমস্যার সৃষ্টি করে না।



