যখন কোথাও ব্যথা হয়, চুলকায় বা প্রদাহ হয়, তখন স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হলো মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া। ফোন, কথাবার্তা বা সিনেমার দিকে মন দেওয়া, যাতে অস্বস্তিকর অনুভূতিটা কম অনুভূত হয়। তবে ইসরায়েলি বিজ্ঞানীদের একটি নতুন গবেষণায় একটি অপ্রত্যাশিত প্রভাব দেখা গেছে: অনুভূতির প্রতি মনোযোগ দেওয়া প্রদাহকে বাড়িয়ে তোলার পরিবর্তে বরং শরীরকে তা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Nature Human Behaviourজার্নালে, যা পরিচালনা করেছেন বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা, লিরন রোজেনক্রানৎজের ল্যাবে নোফার মিজরাহির নেতৃত্বে। তিনটি পরীক্ষায় 57 জন সুস্থ স্বেচ্ছাসেবক অংশ নিয়েছিলেন। বিজ্ঞানীরা হিস্টামিন ব্যবহার করে ত্বকে সাময়িক হালকা প্রদাহ সৃষ্টি করেন, এরপর অংশগ্রহণকারীদের বলা হয় হয় সেই এলাকার অনুভূতির দিকে—যেমন চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা উষ্ণতার দিকে—মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে, অথবা ভিডিও বা বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে মনোযোগ সরিয়ে নিতে।
ফলাফলটি ছিল প্যারাডক্সিক্যাল বা স্ববিরোধী। যখন মানুষ প্রদাহযুক্ত অংশে মনোযোগ নিবদ্ধ করত, তখন তারা সেটি বেশি অনুভব করত, কিন্তু প্রদাহের মাত্রা ছিল কম। একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, মনোযোগ দেওয়ার সময় ফোস্কার গড় আকার ছিল প্রায় 3,5 মিমি, যেখানে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার সময় তা ছিল 5 মিমি। প্রায় 90% অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া তখনই বেশি ছিল যখন তারা মনোযোগ সরিয়ে নিয়েছিলেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই পার্থক্যগুলো দেখা দিয়েছিল। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ: প্রদাহ বেশি অনুভব করা এবং প্রদাহ বেশি হওয়া—একই বিষয় নয়।
এর সম্ভাব্য ব্যাখ্যা ইন্টারোসেপশনের সাথে সম্পর্কিত—যা শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থা বোঝার মস্তিষ্কের ক্ষমতা। হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস, তাপমাত্রা, চাপ, ব্যথা এবং চুলকানি ক্রমাগত মস্তিষ্কে শরীরের ভেতরে কী ঘটছে তার তথ্য পাঠায়। কিন্তু মস্তিষ্ক কেবল এই বার্তাগুলো গ্রহণই করে না। সে এগুলোকে শারীরিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করে।
এই অর্থে, মস্তিষ্ক এবং শরীরের মধ্যে সম্পর্কটি একতরফা তথ্য আদান-প্রদানের মতো নয়, বরং একটি অবিরাম কথোপকথনের মতো:
শরীর - মস্তিষ্ক - অবস্থার মূল্যায়ন - নিয়ন্ত্রক সংকেত - শরীর।
কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে আমরা সম্ভবত সেখান থেকে আসা সংকেতের গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলি। মস্তিষ্ক কী ঘটছে সে সম্পর্কে আরও সঠিক তথ্য পায় এবং সেই অনুযায়ী শরীরের প্রতিক্রিয়া সংশোধন করতে পারে।
গবেষকরা দুটি প্রক্রিয়ারই লক্ষণ খুঁজে পেয়েছেন। প্রথমটি প্রদাহযুক্ত টিস্যু থেকে আসা সংবেদনশীল সংকেতের সাথে সম্পর্কিত। দ্বিতীয়টি সম্ভবত উপর থেকে নিচে—মস্তিষ্ক থেকে শরীরের দিকে—কাজ করে। এমনকি যখন স্থানীয় অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে ত্বকের সংবেদনশীলতা কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তখনও মনোযোগের প্রভাব পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়নি।
একই সাথে হৃদস্পন্দনের পরিবর্তনশীলতাও পরিবর্তিত হচ্ছিল, যা স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র, যার মধ্যে প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রও অন্তর্ভুক্ত, তার সম্ভাব্য অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়। এটি সরাসরি প্রমাণ করে না যে চেতনা সরাসরি প্রদাহকে 'বন্ধ' করে দেয়, তবে এটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে মনোযোগ, স্নায়ুতন্ত্র এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ কতটা নিবিড়ভাবে জড়িত।
চেতনা বিজ্ঞানের জন্য এখানে একটি বিশেষ কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্ন উঠে আসে। আমরা সচেতন প্রক্রিয়া এবং স্বয়ংক্রিয় শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াকে আলাদা করতে অভ্যস্ত: মনোযোগ এবং উপলব্ধি চেতনার অন্তর্গত, আর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজে থেকেই কাজ করে। কিন্তু এই ধরনের গবেষণা এই সীমানাকে ক্রমশ অস্পষ্ট করে তুলছে।
প্রেডিক্টিভ প্রসেসিং বা অনুমানমূলক প্রক্রিয়াকরণের দৃষ্টিকোণ থেকে, মস্তিষ্ক ক্রমাগত শরীরের অবস্থার একটি মডেল তৈরি করে, সেটিকে আগত সংকেতগুলোর সাথে তুলনা করে এবং অভ্যন্তরীণ সিস্টেমগুলোর কাজ সংশোধন করে। মনোযোগ কোনো নির্দিষ্ট শারীরিক সংকেতের নির্ভুলতা বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা বিষয়গত অনুভূতিকে শারীরিক ফিডব্যাকের একটি অংশে পরিণত করে।
অবশ্যই, গবেষণাটি এখনও খুব সীমিত। এতে মাত্র 57 জন সুস্থ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এবং ত্বকে কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট স্বল্পমেয়াদী প্রদাহ নিয়ে পড়াশোনা করা হয়েছিল। ফলাফলগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, অটোইমিউন রোগ, সংক্রমিত ক্ষত বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যাবে না।
তবে এই কাজটি একটি কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে: কম অনুভব করা মানেই কি সবসময় শরীরের জন্য ভালো হওয়া?
হয়তো ব্যথা, চুলকানি এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ অনুভূতি কেবল বিরক্তিকর শব্দ নয় যা মস্তিষ্ক বন্ধ করে দিতে চায়। এগুলো স্নায়ুতন্ত্র এবং শরীরের মধ্যে প্রাচীন যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ হতে পারে।
আর সেক্ষেত্রে নিজের ভেতরে যা ঘটছে তা সচেতনভাবে অনুভব করার ক্ষমতা একটি ভিন্ন অর্থ বহন করে। আমরা কেবল শরীরের দিকে তাকিয়ে থাকি না। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে, মনোযোগ নিজেই সেই প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে উঠতে পারে, যার মাধ্যমে শরীর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ এবং পুনরুদ্ধার করে।

