কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া বা রিঙ্গিং কীসের ইঙ্গিত দেয়?
❓প্রশ্ন:
কানে এই ভোঁ ভোঁ শব্দের মানে কী? আমি শুনেছি এটি একটি আধিভৌতিক শব্দ, যার মাধ্যমে ফেরেশতা বা অন্যান্য সত্তা (সে আমাদের নিজস্ব হোক বা বাইরের) আমাদের সাথে যোগাযোগ করে। এটি কি সত্যি? আর যদি সত্যিই কোনো ফেরেশতা আমাকে কিছু বলতে চান, তবে আমি সেই বার্তা কীভাবে চিনব?
❗️লি-এর উত্তর:
যদি কোনো ব্যক্তি অন্তত নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার বিষয়ে সতর্ক থাকেন, বা আরও স্বাভাবিকভাবে বললে—তার অনুভূতিগুলো সম্পর্কে সচেতন হন এবং তিনি বুঝতে পারেন যে এর পেছনে কোনো দৃশ্যমান শারীরিক প্রভাব নেই, তবে খুব সম্ভবত এটি সত্যিই একটি "বার্তা"।
তবে এখানে বিষয়টি এমন নয় যে কেউ আপনাকে তথ্য বলে দিচ্ছে আর আপনি তা লিখে নিচ্ছেন। এর মূল কারণ হলো, সেই ব্যক্তি তার চেতনার তরঙ্গের সীমা এতটাই বাড়িয়ে ফেলেছেন যে তিনি উচ্চতর কম্পাঙ্কগুলোকে শব্দ বা শোরগোল হিসেবে অনুভব করতে শুরু করেছেন।
এর অর্থ হলো—আপনি এমন কিছু শুনতে শুরু করেছেন যা মস্তিষ্ক এখনো ডিকোড বা ব্যাখ্যা করতে শেখেনি। আর এটি যে কান দিয়ে শুনতে হবে এমন কোনো কথা নেই, বরং শব্দাতীত এক অভ্যন্তরীণ বার্তা আপনার কাছে পৌঁছাচ্ছে। এর বহুমাত্রিক অর্থগুলো অনেকটা বিশাল কোনো বিশ্বকোষের মতো যা মাত্র তিনটি বাক্যে প্রকাশ করা অসম্ভব—এগুলো আসলে 'পড়তে' বা উপলব্ধি করতে হয়।
এক্ষেত্রে 'পড়া' বলতে মুহূর্তের মধ্যে বিশাল কোনো জ্ঞানকে গ্রহণ করার দক্ষতাকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ কোনো সময় ব্যয় না করেই সরাসরি 'ওহ, আমি বুঝতে পেরেছি'—এমন এক উপলব্ধি। আর এই কারণেই একে শব্দে অনুবাদ করা অর্থহীন।
তাই পুরো বিষয়টি হলো ধীরে ধীরে এক নতুন অনুভূতির সাথে অভ্যস্ত হওয়া—যাকে বলা যায় আমাদের 'নবম ইন্দ্রিয়'।
এটিও লক্ষ্য করা প্রয়োজন যে, কম্পাঙ্ক কমে গেলে শব্দের 'প্রবলতা' বেশি অনুভূত হয়। সহজ কথায়, 'নবম ইন্দ্রিয় দিয়ে শোনার' ক্ষমতা আপনার ইতোমধ্যেই রয়েছে, আর জাগতিক শব্দের তীব্রতা আসলে আপনার চেতনার কম্পাঙ্ক কমে যাওয়ার একটি লক্ষণ।
এই 'শোনার' দক্ষতা অনুশীলনের জন্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সুনির্দিষ্ট জিজ্ঞাসা করা এবং বাইরের কোন ঘটনাগুলো আপনার সেই জিজ্ঞাসার উত্তর দিচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করা ভালো। এছাড়া ঘুমানোর আগে প্রশ্ন করা এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের ভেতরের উপলব্ধিতে মনোযোগ দেওয়া এই 'নবম ইন্দ্রিয়কে অভ্যস্ত করার' সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সকালে যদি আপনি নিজের অনুভূতির দিকে খেয়াল রাখেন, তবে গতানুগতিক কাজে তাড়াহুড়ো করবেন না, বিশেষ করে কারো সাথে কথা বলা বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢোকা এড়িয়ে চলুন। ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ১০-১৫ মিনিট সময় নিজের জন্য রাখুন, ধ্যান করুন বা নিজেকে পর্যবেক্ষণ করুন। তবেই আপনার প্রশ্নের উত্তরগুলো ক্রমশ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।




