১৮ জুলাই, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সের মধ্যকার লড়াইটি ছিল অভাবনীয়। ৬:৪ গোলের ব্যবধানে ফ্রান্সকে পরাজিত করে ইংল্যান্ড প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের গৌরব অর্জন করেছে।
সেমিফাইনালে পরাজয়ের পর এই ম্যাচটি কেবল একটি সান্ত্বনার লড়াই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাঠের খেলায় দুই দলই রক্ষণাত্মক কৌশলের পরিবর্তে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়, যা বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের ইতিহাসে গোল সংখ্যার দিক থেকে একটি নতুন রেকর্ড তৈরি করে।
ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা জয়ের নেশায় মরিয়া ছিলেন। মাত্র তৃতীয় মিনিটে ডেক্লান রাইস প্রতিপক্ষের ভুল পাস কাজে লাগিয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ১৮তম মিনিটে কর্নার কিক থেকে এজরি কনসা ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর বুকায়ো সাকার জাদুকরী পারফরম্যান্সে প্রথমার্ধেই ইংল্যান্ড ৪:০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ফ্রান্স যেন নতুন রূপে ফিরে আসে। কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করে ব্যবধান কমানোর পর ব্র্যাডলি বারকোলাকে দিয়ে গোল করান এবং পরবর্তীতে নিজেও গোল করেন। এতে স্কোরলাইন ৪:৩ হয়ে গেলে ম্যাচটি চরম উত্তেজনার দিকে মোড় নেয়। এমবাপ্পে তার এই জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মোট ১০ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে যান এবং বিশ্বকাপে মোট ২২ গোল করে লিওনেল মেসির রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছান।
ফ্রান্স যখন সমতা ফেরানোর দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই ৮৭তম মিনিটে বুকায়ো সাকা পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এবং স্কোর ৫:৩ করেন। ইনজুরি টাইমে উসমান দেম্বেলে ব্যবধান কমালেও, শেষ হাসি হাসেন জুড বেলিংহাম। তিনি দুর্দান্ত এক ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে গোল করে ৬:৪ ব্যবধানে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন। এই গোলের মাধ্যমে বেলিংহাম একক বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ সাতটি গোল করার রেকর্ড গড়েন।
এই ম্যাচে মোট ১০টি গোল হয়েছে, যা বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ১৯৮২ সালের পর এটিই ছিল বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি গোল হওয়া ম্যাচ। ইংল্যান্ড এর আগে ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে অংশ নিলেও পরাজিত হয়েছিল। মিয়ামির এই জয় ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে তাদের সেরা সাফল্যগুলোর একটি।
ফ্রান্সের জন্য এই ম্যাচটি ছিল তাদের দীর্ঘ ১৪ বছরের কোচ দিদিয়ের দেশমের শেষ ম্যাচ। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা ছিল প্রশংসনীয়। তবে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের শক্তিশালী রক্ষণভাগের সামনে তাদের হার মানতে হয়।
১৮ জুলাইয়ের এই ম্যাচটি কেবল ব্রোঞ্জ পদকের লড়াই ছিল না, বরং এটি ছিল একটি ফুটবলীয় মহাকাব্য। সাকার হ্যাটট্রিক, এমবাপ্পের রেকর্ড এবং বেলিংহামের গোল সব মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা এমন এক ম্যাচ উপহার পেয়েছেন যা দীর্ঘকাল মানুষের স্মৃতিতে অমলিন থাকবে। ৬:৪ ব্যবধানের এই জয় ইংল্যান্ডের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে গণ্য হবে।

