NASA-র একজন মহাকাশচারী দেখিয়েছেন যে 23 বছরে পৃথিবী কতটা বদলে গেছে: আগে মহাকাশ থেকে রাতের শহরগুলোকে হলুদ দেখাত, কিন্তু এখন সেগুলো নীলচে-সাদা দেখায়। এর মূল কারণ হলো খরচ বাঁচাতে মেগাসিটিগুলোতে সোডিয়াম বাতির পরিবর্তে LED আলোর ব্যবহার। ফোন এবং ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকেও নীল আলো নির্গত হয়। সন্ধ্যার এই আলো মেলাটোনিন উৎপাদনে বাধা দিতে পারে — এটি এমন একটি হরমোন যা শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। এর ফলে ঘুমিয়ে পড়া আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
এক সময় কক্ষপথ থেকে রাতের শহরগুলো মূলত উষ্ণ হলুদ-কমলা আলোয় জ্বলজ্বল করত। আজ সেগুলো ক্রমেই শীতল, সাদা-নীল দেখাচ্ছে। এর কারণ হলো মেগাসিটিগুলোতে সোডিয়াম বাতির পরিবর্তে ব্যাপকভাবে LED আলোর ব্যবহার।
আর এই পরিবর্তন শুধু মহাকাশ থেকে তোলা পৃথিবীর ছবিতেই সীমাবদ্ধ নয়।

আমাদের শরীরের জন্য আলোর উজ্জ্বলতাই শুধু নয়, এর বর্ণালিও গুরুত্বপূর্ণ। চোখের রেটিনায় বিশেষ কিছু আলোকসংবেদী কোষ থাকে যা আমাদের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ির সাথে যুক্ত। এরা নীল-আসমানি বর্ণালির স্বল্প-তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর প্রতি বিশেষভাবে সক্রিয় হয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়।
ঠিক এই আলোই মেলাটোনিন উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে — যে হরমোনটি সন্ধ্যায় শরীরকে বুঝতে সাহায্য করে যে রাত ঘনিয়ে আসছে এবং এখন ঘুমের প্রস্তুতির সময়।
তাই সমস্যাটি আসলে শুধু ফোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
হ্যাঁ, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং ল্যাপটপ থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নীল বর্ণালির আলো নির্গত হয়। কিন্তু আমাদের চারপাশে ঘরে উজ্জ্বল LED বাতি, রাস্তার আলো, দোকানের শো-কেস, বিজ্ঞাপনের সাইনবোর্ড, অফিসের ভবন এবং পাশের বাড়ির জানালা থেকে আসা আলোও রয়েছে।
এর ফলে সন্ধ্যায় একজন মানুষ আক্ষরিক অর্থেই এমন এক পরিবেশে থাকতে পারেন যা মস্তিষ্কের কাছে তখনও দিনের মতো মনে হয়।

আধুনিক শহরগুলোতে শীতল সাদা আলো বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয় কারণ LED বাতি সাশ্রয়ী, দীর্ঘস্থায়ী এবং রাস্তাঘাট ভালোভাবে আলোকিত করে। কিন্তু উষ্ণ হলুদ আলোর তুলনায় সাধারণত এই শীতল আভাগুলোই সার্কাডিয়ান সিস্টেমের ওপর বেশি প্রভাব ফেলে।
তবে এটি বোঝাও জরুরি: জানালার বাইরে একটি মাত্র ল্যাম্পপোস্ট নিজে থেকেই আপনার ঘুম কেড়ে নেবে এমন নয়। ঘুমের ওপর বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বিত প্রভাব কাজ করে — উজ্জ্বলতা, প্রভাবের সময়কাল, দিনের সময় এবং আলোর বর্ণালি।
কিন্তু সন্ধ্যায় যদি ঘরে উজ্জ্বল শীতল আলো জ্বলে, চোখের সামনে স্ক্রিন থাকে এবং জানালার বাইরে সারা রাত ল্যাম্পপোস্ট ও সাইনবোর্ড জ্বলতে থাকে, তবে শরীর একসাথে বেশ কিছু সংকেত পায় যে «দিন এখনও শেষ হয়নি»।
আর তখনই ঘুমিয়ে পড়া সত্যিই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বিষয়টি কিছুটা বিদ্রূপাত্মক: শহরগুলো আরও সাশ্রয়ী এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত হয়েছে, কিন্তু রাতগুলো হয়ে উঠেছে অনেক বেশি আলোকিত।
মস্তিষ্কের জন্য অন্ধকার এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। সন্ধ্যার দিকে আলোর স্বল্পতাই শরীরকে কর্মতৎপর অবস্থা থেকে বিশ্রামের অবস্থায় যেতে সাহায্য করে।
তাই সন্ধ্যার আলোক পরিবেশ উন্নত করার অন্যতম সহজ উপায় হলো — ঘুমানোর এক-দুই ঘণ্টা আগে আলোর উজ্জ্বলতা কমিয়ে দেওয়া, অপেক্ষাকৃত উষ্ণ আভার বাতি বেছে নেওয়া, মাথার ওপরের উজ্জ্বল আলো জ্বালিয়ে না রাখা এবং সম্ভব হলে রাস্তা থেকে শোবার ঘরে আসা আলো নিয়ন্ত্রণ করা।
তাই সম্ভবত ফোনটি একা দায়ী নয়।
মাঝে মাঝে পুরো শহরই তার সঙ্গে স্রেফ দিন নিভিয়ে দিতে ভুলে যায়।



