হাইনানের দক্ষিণের নদীগুলোতে, যেখানে স্রোত পলি ও পাতা বয়ে নিয়ে যায়, বিজ্ঞানীরা এমন একটি মাছের সন্ধান পেয়েছেন যাকে আগে পরিচিত প্রজাতি বলে মনে করা হতো। পরে দেখা যায়, এটি Pseudobagrus গণের একটি স্বতন্ত্র প্রতিনিধি, যা দ্বীপের পুরনো নাম অনুসারে 琼州拟鲿 (কিওংঝোও নিছাং) নামে পরিচিতি পেয়েছে। নানদু ও চাংহুয়া নদীর অববাহিকায় নিয়মিত জরিপ চালানোর সময় এই আবিষ্কার করা হয়েছে।
হাইনান ইনস্টিটিউট অফ মেরিন অ্যান্ড ফিশারি সায়েন্সের গবেষকরা নতুন এই মাছটির অঙ্গসংস্থানগত বৈশিষ্ট্যকে একই গণের অন্যান্য প্রজাতির বর্ণনার সাথে তুলনা করেছেন।
উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে: উপরের চোয়ালের শুঁড়ের দৈর্ঘ্য, পাখনার আকার এবং শরীরের অনুপাত পরিচিত কোনো প্রজাতির সাথে মেলেনি। আণবিক বিশ্লেষণে নিশ্চিত হয়েছে যে এটি একটি স্বতন্ত্র প্রজাতি, পূর্ব-বর্ণিত কোনো প্রজাতির ভিন্নতা নয়।
আগে এই মাছটিকে প্রায়শই ডোরাকাটা সিউডোব্যাগ্রাস (prolongitudinally striped Pseudobagrus) বলে ভুল করা হতো। তবে এখন দেখা গেছে, প্রকৃত ডোরাকাটা প্রজাতিটি শুধুমাত্র ওয়ানকুয়ান নদীর একটি নির্দিষ্ট ছোট অঞ্চলে বাস করে।
হাইনানের অন্যান্য নদী এবং মূল ভূখণ্ডে পাওয়া অন্যান্য মাছগুলো ভিন্ন, এখনো অনাবিষ্কৃত ফর্মের অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রজাতির সীমানা এই ধরনের স্পষ্টীকরণ জনসংখ্যার অবস্থা আরও সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে সাহায্য করে।
বাহ্যিকভাবে 琼州拟鲿 (কিওংঝোও নিছাং) মুক্তা নদী (Pearl River) এবং লাল নদীর (Red River) অববাহিকার প্রজাতির মতো দেখতে হলেও, ত্রিমাত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং শুঁড়ের দৈর্ঘ্যের অনুপাতের পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ এটিকে এর প্রতিবেশী প্রজাতি থেকে নির্ভরযোগ্যভাবে আলাদা করে। দ্বীপের বিচ্ছিন্ন নদী ব্যবস্থাগুলোর প্রভাবে সম্ভবত এই পার্থক্যগুলো তৈরি হয়েছে, যেখানে স্রোত, তাপমাত্রা এবং খাদ্য উৎসের অবস্থা মূল ভূখণ্ডের চেয়ে ভিন্ন।
এই ফলাফলগুলো "অ্যানিম্যালস" (Animals) জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এর আবাসস্থল নির্বাচন, জীবনচক্রের বৈশিষ্ট্য এবং জনসংখ্যার পরিমাণ অধ্যয়ন করার পরিকল্পনা করছেন। এই তথ্যগুলো হাইনানের মিঠাপানির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পদক্ষেপের ভিত্তি তৈরি করবে, যেখানে প্রতিটি নদী একটি স্বতন্ত্র বাস্তুতান্ত্রিক কুলুঙ্গি (ecological niche) হিসেবে কাজ করে।
দ্বীপের নদীগুলো প্রায়শই এমন প্রজাতি ধারণ করে যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না, এবং পদ্ধতিগত পর্যবেক্ষণ শুরু না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিলুপ্তি অলক্ষিতই থেকে যায়।




