সিউলের র‍্যাম্পে রোবট: ফ্যাশন নাকি প্রযুক্তির প্রদর্শনী?

সম্পাদনা করেছেন: Katerina S.

সিউলের ‘মাখ ৩৩’ (Mach33) ফ্যাশন শোতে সম্প্রতি র‍্যাম্পের ওপর দিয়ে হেঁটে গেল হিউম্যানয়েড বা মানুষের মতো দেখতে কিছু রোবট। লোকমুখে শোনা যাচ্ছে যে, পণ্য বিক্রয় থেকে কোনো মুনাফা না আসা সত্ত্বেও র‍্যাম্পে প্রতিটি রোবটের উপস্থিতির পেছনে খরচ হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ডলারেরও বেশি। আর এমন আকাশচুম্বী ব্যয়ের খবরটি স্বাভাবিকভাবেই এই আয়োজনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বর্তমানে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি মুনাফার হ্রাস এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির মতো সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্র্যান্ডগুলো তাদের প্রদর্শনীর ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতার চেয়ে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিত্যনতুন উপায় খুঁজছে। ‘মাখ ৩৩’ শোটি মূলত সেই প্রচেষ্টারই প্রতিফলন; যেখানে ফিজিক্যাল এআই-কে ভবিষ্যতের হাতিয়ার হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, ব্যয় হ্রাসের বিষয়ে কোনো বাস্তবসম্মত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই শোগুলোর অর্থায়নকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা এর মাধ্যমে যেমন বড় ধরনের প্রচার বা পিআর সুবিধা পাচ্ছেন, তেমনি দর্শকদের প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত মূল্যবান ডেটাও সংগ্রহ করছেন। অন্যদিকে, ডিজাইনাররা এখানে মূল সৃজনশীল কারিগরের পরিবর্তে কেবল সজ্জাকারীর ভূমিকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এই আয়োজনের বাণিজ্যিক কাঠামো স্পষ্ট করে দেয় যে, এখানে ফ্যাশনের চেয়ে বিপণন বা মার্কেটিংকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

‘উদ্ভাবন এবং মানুষের সঙ্গে প্রযুক্তির মেলবন্ধন’—এমন মুখরোচক প্রচারণার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, কারণ এই রোবটগুলো বাস্তবে কোনো কাজ করে না, বরং কেবল মডেলদের হাঁটার ভঙ্গি অনুকরণ করে। এর ফলে যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী এবং সফটওয়্যার নির্মাতারা বড় বড় চুক্তি হাতিয়ে নিচ্ছেন, আর ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোকে কেবল প্রদর্শনী বাবদ অর্থ গুনতে হচ্ছে।

এ ধরনের শো দেখে ক্রেতারা কেবল পোশাক কেনেন না, বরং তারা নিজেদের ভবিষ্যতের প্রযুক্তির অংশ মনে করে এক ধরণের মানসিক তৃপ্তি পান। এর মাধ্যমে ব্র্যান্ডগুলো এমন একটি প্রজন্মের নজর কেড়ে নিতে সক্ষম হচ্ছে যারা গতানুগতিক ফ্যাশন শোর প্রতি আকর্ষণ হারিয়েছে, কিন্তু বাস্তব পণ্যের ব্যবহার পুরোপুরি ত্যাগ করতে এখনও প্রস্তুত নয়।

আসলে, সংগ্রহের মূল উৎপাদন ব্যয়ে এই রোবটগুলোর কোনো প্রভাব নেই। এগুলো কেবল এটাই প্রমাণ করে যে, বড় বড় বিনিয়োগ এখন প্রযুক্তি প্রদর্শনের জন্য নতুন ক্ষেত্র খুঁজছে এবং ফ্যাশন জগত ক্রমেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষাগারে পরিণত হচ্ছে। দিনশেষে, এই ধরণের আয়োজনের প্রকৃত সার্থকতা কাপড়ের পরিমাণ বা পোশাক তৈরির সময় দিয়ে নয়, বরং দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার তথ্য এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগের মাধ্যমেই নিরূপিত হয়।

14 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • 'Robots need clothes': humanoids hit catwalk in Seoul

  • AFP официальный сайт

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।