বাস্তবের শাখাগুলো কি একে অপরকে ছেদ করে?

লেখক: lee author

বাস্তবের শাখাগুলো কি একে অপরকে ছেদ করে?-1

❓প্রশ্ন:
আমাদের পৃথিবীতে সবকিছু এভাবেই ঘটছে—এই কথাটি বিশ্বাস করতে খুব ইচ্ছে করে। কিন্তু এই বিষয়টি আমাকে বিভ্রান্ত করে যে, ক্ষুদ্র জগৎ (microworld) যেখানে কণাগুলো সুপারপোজিশনে (superposition) থাকতে পারে, আর বৃহৎ জগৎ (macroworld) যেখানে কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা নয়, বরং চিরায়ত পদার্থবিদ্যার সূত্রগুলো কাজ করে—এই দুইয়ের মধ্যে একটি সীমা রয়েছে। আমি পদার্থবিদ্যা থেকে অনেক দূরে, তবে ডিকোহেরেন্স (decoherence) সম্পর্কে শুনেছি। এছাড়া, বাস্তবের শাখাগুলোর মধ্যে এই 'লাফিয়ে যাওয়া' বা 'পরিবর্তন' খুব স্পষ্ট নয়। এগুলো কি শক্তির নিত্যতা সূত্রকে (law of conservation of energy) লঙ্ঘন করে না?

বিজ্ঞানীরা মাল্টিভার্সের (multiverse) অস্তিত্বকে স্বীকার করেন, কিন্তু দৃঢ়ভাবে বলেন যে বাস্তবের এই 'শাখাগুলো' একে অপরকে ছেদ করে না: একবার বিভক্ত হলে তা আর অপরিবর্তনীয়। তাহলে হয়তো আমাদেরকে শুধু বিশ্বাস করে যেতে হবে, এর কার্যপ্রণালী না বুঝেই? আপনার ধারণাটি আমার জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলিতে সাহায্য করে, কিন্তু কখনও কখনও সংশয় দেখা দেয়…

❗️উঃ লি:
প্রথমত, বৃহৎ ও ক্ষুদ্র জগতের মধ্যে কোনো বিভাজন নেই; বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়গুলো দেখার একটি উপায় মাত্র। কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা বৃহৎ জগতেও একইভাবে কাজ করে; শুধু এই প্রক্রিয়াগুলিতে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন সমকালীন বিকল্প জড়িত থাকে, যা বিজ্ঞান প্রযুক্তিগতভাবে এখনো গণনা করতে পারে না – কারণ এমন কোনো সরঞ্জাম নেই।

দ্বিতীয়ত, আধুনিক বিজ্ঞানে সময় ও স্থানের মূল ধারণা সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট বোঝাপড়া নেই। কেবল তাদের প্রকাশ্য ফলাফলগুলি বর্ণনা করা হয়। এই কারণেই 'বাস্তবের শাখাগুলো' আসলে কী, তা নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়। রৈখিক (linear) ধারণা অনুযায়ী, মনে হয় যে সময় যেন অস্তিত্বহীনতা থেকে দূরে কোথাও নিজের মতো করে বয়ে চলেছে, আর সেই পথে নানা শাখা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এর আসল অর্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন। সময় হলো একটি বিন্দু। স্থান কোনো শূন্যতা নয়, বরং এটি সংযোগগুলির প্রকাশের একটি পদ্ধতি। সংযোগগুলি 'বিন্দুর মধ্যে ঘূর্ণায়মান' চক্রের মতো, যা ঘটনাগুলির গতিশীলতার অনুভূতি তৈরি করে। এই সবকিছু গাণিতিকভাবে খুব সহজভাবে দেখানো যায়, যা পদার্থবিজ্ঞানের সঙ্গে বিন্দুমাত্র সাংঘর্ষিক নয়, বরং এটি দেখায় কীভাবে পদার্থবিদ্যার উৎপত্তি হয়।

অন্য কথায়, আমাদের বিজ্ঞান দৃশ্যমান ও প্রকাশিত ঘটনাগুলির বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, কিন্তু এখনো এটি ব্যাখ্যা করতে পারে না যে ভৌত সূত্রগুলি কোথা থেকে এসেছে। সুতরাং, বিষয়টি 'শুধুমাত্র বিশ্বাস করা' নয়, বরং একটি সাধারণ যুক্তির দিকে তাকানো – যদি চারপাশে একটি বিশ্ব থাকে, তবে এর একটি উৎসও থাকবে। আর উৎসকে শুধু 'একটি বিস্ফোরণ হয়েছিল আর সবকিছু তৈরি হয়ে গেছে' – এই ধারণায় সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। অন্যথায়, এটি 'ঈশ্বর চেয়েছিলেন এবং মানুষকে তৈরি করেছিলেন' – এমন ধারণার মতো আরেকটি ধর্ম ছাড়া আর কিছুই নয়। বাস্তবের শাখাগুলো স্বাধীন সত্তা হিসেবে বিদ্যমান নয়। এগুলি হলো তথ্যগত বিচ্ছিন্ন 'বিন্দু', যা বিজ্ঞানের ধারণা অনুযায়ী, 'কোয়ান্টাম অপরিবর্তনীয় পছন্দ' (quantum irreversible choice) থেকে উদ্ভূত হয়। এটি একটি লিখিত শব্দের মতোই অপরিবর্তনীয়। তবে অক্ষরগুলির যেকোনো ক্রমে যত ইচ্ছা শব্দ লেখা যেতে পারে। এই সাদৃশ্যে, 'অক্ষর' হলো সবকিছুর সাধারণ তথ্যগত কাঠামো। আর 'শব্দ' হলো এই অক্ষরগুলিকে অর্থপূর্ণভাবে একত্রিত করার যুক্তি – যা মহাবিশ্ব। তবে, নতুন কোনো সত্তা তৈরি না করে, শুরুটিকে 'আছে' এবং 'নেই' – অর্থাৎ 0 ও 1 – হিসেবে দেখুন। এক্ষেত্রে, 'নেই' বলতে একটি অনুমান বা বিভ্রম বোঝায়।

এখন 0 এবং 1-এর যুক্তি অনুসরণ করুন – 'ঐশ্বরিক তথ্যের' এক অসীম সমন্বয় হিসেবে – তাহলে আপনি আমাদের ডিজিটাল পরিবেশের ধারণার সঙ্গে একটি সাদৃশ্য খুঁজে পাবেন। আর আমরা (মানুষ) কিছুই নতুন করে উদ্ভাবন করি না, আমরা বিদ্যমান চিত্রগুলির উপর ভিত্তি করে আমাদের প্রযুক্তি তৈরি করি। সুতরাং, বিভিন্ন মহাবিশ্ব হলো কম্পিউটারে বিভিন্ন প্রোগ্রাম (উইন্ডো) এর মধ্যে স্যুইচ করার মতো। একটির যুক্তি অন্যটির যুক্তি থেকে ভিন্ন, আর তাই 'বাস্তবের ভিন্ন শাখা' তৈরি হয়। এটি একটি চরম সরলীকরণ, কিন্তু এর মূল অর্থ হলো, আমাদের পদার্থবিদ্যা ধীরে ধীরে এই উপলব্ধির দিকে এগোচ্ছে – অন্যথায়, আজকের 'থিওরি অফ এভরিথিং' (Theory of Everything) যে অচলাবস্থার মধ্যে আছে, যেখানে বিদ্যমান 'বিভিন্ন শক্তি' থেকে বিশ্বকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়, সেই অচলাবস্থাই থেকে যাবে।

80 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Сайт автора lee

  • Lee I.A.

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।