লক্ষ্ণৌ-এর সঞ্জয় গান্ধী পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেসের পরীক্ষাগারে, ভারতীয় গবেষকরা প্রথমবারের মতো সাধারণ অস্ত্রোপচারের সময় প্রাপ্ত নমুনা থেকে মানুষের হৃৎপিণ্ডের ভালভের জীবন্ত ইন্টারস্টিশিয়াল কোষগুলিকে সফলভাবে পৃথক করতে এবং বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন।
কার্ডিওভাসকুলার ও থোরাসিক সার্জারি বিভাগের ডঃ শান্তনু পান্ডে এবং মলিকুলার মেডিসিন ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের ডঃ অলোক কুমারের নেতৃত্বে দলটি এমন টিস্যু ব্যবহার করেছে যা আগে কেবল ফেলে দেওয়া হত। পরিবর্তে, এটি অবিলম্বে বায়োটেকনোলজিস্টদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং পেট্রি ডিশে আসল মানব ভালভের কোষগুলি বাড়তে শুরু করে।
এই কোষগুলি, যা ভালভ ইন্টারস্টিশিয়াল সেল (VICs) নামে পরিচিত, ভালভের নমনীয়তা এবং শক্তি বজায় রাখার পাশাপাশি এর দৈনন্দিন মেরামতের জন্য দায়ী। যখন তারা প্রদাহে আক্রান্ত হয় বা সঠিকভাবে কাজ করে না, তখন টিস্যু পুরু হয়ে যায়, ক্যালসিয়াম জমা হয় এবং রক্ত প্রবাহ ব্যাহত হয়। পরীক্ষাগারে এই কোষগুলি বৃদ্ধি করার ফলে রোগীদের কোনো ঝুঁকি ছাড়াই প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়।
এই কাজটি ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ একটি গুরুতর সমস্যা রয়ে গেছে। তথ্যসূত্র অনুসারে, বিশ্বব্যাপী এই রোগের সমস্ত ঘটনার ৪০-৫০% এবং এই রোগে মৃত্যুর ৩০-৪০% ভারতে ঘটে। রোগটি প্রায়শই সাধারণ গলা ব্যথার মাধ্যমে শুরু হয় এবং তারপর শিশু এবং তরুণদের মধ্যে ভালভের অপরিবর্তনীয় ক্ষত সৃষ্টি করে।
গবেষকরা দুটি মূল সিগন্যালিং পথ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন যা প্রদাহ এবং ফাইব্রোসিস শুরু করে: TGF-β/SMAD3 এবং ERK 1/2। ডঃ কুমারের মতে, এই পথগুলির ক্রমাগত সক্রিয়তা ভালভের অতিরিক্ত ক্ষত এবং কঠোরতার দিকে পরিচালিত করে। এখন ফার্মাকোলজিস্টদের ভবিষ্যতের ওষুধের জন্য নির্দিষ্ট আণবিক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে।
চূড়ান্ত লক্ষ্য হল সম্পূর্ণ জীবন্ত বায়োইঞ্জিনিয়ার্ড ভালভ তৈরি করা যা শিশুর সাথে বৃদ্ধি পাবে এবং নিজেরাই মেরামত করবে। এটি এখনও একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা: আমাদের কোটি কোটি কোষ তৈরি করতে, উপযুক্ত ত্রিমাত্রিক কাঠামো তৈরি করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী ক্লিনিকাল ট্রায়ালে তাদের পরীক্ষা করতে শিখতে হবে। আজকের দিনে, রোগীরা এখনও শুধুমাত্র ঐতিহ্যবাহী অস্ত্রোপচার পদ্ধতি দ্বারা সাহায্য পায়।
নিকটতম ব্যবহারিক সুবিধা হল পরীক্ষামূলক মডেলগুলিতে নতুন যৌগগুলি পরীক্ষা করার ক্ষমতা, যার ফলে ক্ষত প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা বছর বা দশক ধরে বিলম্বিত হয়।

