উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা আনুষ্ঠানিকভাবে Ptilotus senarius নামক উদ্ভিদটির বর্তমান মর্যাদা পরিবর্তন করেছেন। ১৯৬৭ সাল থেকে এই প্রজাতিটিকে বিলুপ্ত বলে গণ্য করা হলেও সাম্প্রতিক একটি আকস্মিক আবিষ্কার প্রমাণ করেছে যে এটি প্রকৃতিতে এখনও টিকে আছে।
সিটিজেন সায়েন্স প্ল্যাটফর্ম 'আইন্যাচারালিস্ট' (iNaturalist)-এর সক্রিয় ভূমিকা না থাকলে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি হয়তো ঘটতই না। এই প্ল্যাটফর্মের একজন ব্যবহারকারী একটি অপরিচিত ফুলের ছবি তোলেন এবং সেটি অ্যাপে আপলোড করেন।
কুইন্সল্যান্ড হার্বেরিয়ামের উদ্ভিদবিজ্ঞানী অ্যান্থনি বিনের নজরে আসে সেই বিশেষ পোস্টটি। বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, প্রজাতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষিত হওয়ার দশ বছর আগেই বিজ্ঞানী বিন নিজেই এর প্রথম বৈজ্ঞানিক বিবরণ দিয়েছিলেন। নিজের অ্যাপ ফিডে আসা ছবিটিতে উদ্ভিদটিকে দেখামাত্রই তিনি চিনে ফেলেন।
সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এক পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণেই এই প্রজাতিটি প্রতিকূলতার মাঝেও এতদিন টিকে থাকতে পেরেছে। এর আবাসস্থল মূলত উত্তর অস্ট্রেলিয়ার অত্যন্ত দুর্গম এবং বন্ধুর ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ। ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কারণে গবেষকরা দীর্ঘকাল ওই দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে পারেননি।
আবিষ্কারটি নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত Ptilotus senarius-এর দাপ্তরিক মর্যাদা আপডেট করা হয়েছে। এর ফলে উদ্ভিদটি এখন থেকে সরকারি আইনি সুরক্ষার আওতায় আসবে, যা পরিবেশবাদীদের জন্য এই প্রজাতির সংখ্যা বৃদ্ধিতে বিশেষ সংরক্ষণ কর্মসূচি শুরু করার পথ প্রশস্ত করবে।

