ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী ফিল গেটসের একটি মাইক্রোফটোগ্রাফি, যা কেমিক্যাল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নিউজ (C&EN) সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে, তা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান বিষয়ক জনপ্রিয় মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। অ্যামোফিলা অ্যারেনারিয়া (Ammophila arenaria) ঘাসের প্রস্থচ্ছেদে শত শত ক্ষুদ্র হাসিমুখ স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। এই মিষ্টি আলোক বিভ্রম বা প্যারেডোলিয়ার আড়ালে মূলত লুকিয়ে আছে এক অত্যন্ত জটিল জৈব রাসায়নিক প্রকৌশল।
স্মাইলির চোখ এবং মুখ বলে যা মনে হচ্ছে, সেগুলো আসলে জাইলেম টিস্যুর সূক্ষ্ম নালি, যা পানি পরিবহনের সুবিধার্থে লিগনিন নামক একটি শক্ত পলিমার দিয়ে মজবুত করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই 'হাসি' মূলত চিনি বা শর্করা পরিবহনকারী ফ্লোয়েম কোষের সমষ্টি, যা নমনীয় সেলুলোজ দিয়ে গঠিত। এই নকশাটিকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলতে বিজ্ঞানী ডাবল ফ্লুরোসেন্ট স্টেইনিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। অতিবেগুনি এবং নীল-বেগুনি আলোর প্রভাবে লিগনিন ও সেলুলোজ শক্তি শোষণ করে ভিন্ন ভিন্ন উজ্জ্বল রঙের বৈপরীত্যে জ্বলে ওঠে।
তবে এই আবিষ্কারের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো বৃষ্টির সময় এসব কোষের স্বভাব। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে কোষের দেয়ালগুলো সামান্য সংকুচিত হয়ে যায় বলে এই স্মাইলিগুলোকে কিছুটা ক্লান্ত বা 'বিষণ্ণ' দেখায়। যখন বৃষ্টি শুরু হয়, তখন অসমোসিস বা অভিস্রবণ প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়ে ওঠে। ঘাসের অভ্যন্তরে দ্রুত পানি প্রবেশ করার ফলে এক ধরনের উচ্চ হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ বা 'টারগর' সৃষ্টি হয়।
এই টারগর চাপের প্রভাবে জাইলেমের ফাঁপা নালিগুলো প্রসারিত হয়ে একদম গোল আকার ধারণ করে এবং ফ্লোয়েমের সেলুলোজের রেখাটি টানটান হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। কোষের এই হাইড্রোডাইনামিক প্রসারণের ফলে ঘাসের 'হাসি' আক্ষরিক অর্থেই আরও প্রশস্ত এবং স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এভাবেই আমাদের পায়ের নিচের ঘাস বৃষ্টির ফোঁটার প্রতি সাড়া দেয় এবং ভরা বর্ষায় সবচেয়ে 'সুখী' বা হাসিখুশি রূপ ধারণ করে।

