শীতের মাসগুলোতে প্রকৃতি মাঝে মাঝে এমন সব অপ্রত্যাশিত সমাধান নিয়ে আসে যা আমাদের অবাক করে। বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে, জাপানের লং-ক্লড শ্রু (long-clawed shrew)-এর মাথার সামনের অংশ বা নাকের দিকটি শীতকালে উল্লেখযোগ্যভাবে বড় হয়ে যায়, যদিও তাদের মাথার খুলির বাকি অংশ, এমনকি মস্তিষ্কের অংশটিও আকারে ছোট হয়ে আসে।
প্রসিডিংস অফ দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি (Proceedings of the Royal Society B) জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাটি 136 টি মাথার খুলির বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, যা 1948 থেকে 1988 সাল পর্যন্ত হোক্কাইডোতে সংগ্রহ করা হয়েছিল। গ্রীষ্ম ও শরৎকালে সংগৃহীত কম বয়সী শ্রুগুলোর তুলনায় শীতকালে তাদের মস্তিষ্কের খুলির উচ্চতা 12 শতাংশ কমে যায়। একই সময়ে, নাকের অংশের (রোস্ট্রাম) উচ্চতা 7 শতাংশ এবং প্রস্থ 6 শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
এই ঘটনাটিকে 'বিপরীত ডেনেল ফেনোমেনন' (reverse Dehnel's phenomenon) বলা হয়েছে—যা অনেক শ্রু প্রজাতির মধ্যে দেখা যাওয়া পরিচিত ঋতুভিত্তিক শরীর ও মস্তিষ্ক ছোট হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ার ঠিক উল্টো। এই পরিবর্তনগুলো আবার ফিরে আসে: বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে আকারগুলো আগের অবস্থায় ফিরে যায়। গবেষকরা ধারণা করছেন যে, নাকের বর্ধিত গহ্বরটি রক্তনালীর ঘন জালের মাধ্যমে বরফশীতল বাতাসকে মস্তিষ্কে পৌঁছানোর আগেই উষ্ণ করতে সাহায্য করে, যা এখন আকারে ছোট হয়ে গেছে।
এর একটি অতিরিক্ত সুবিধা হতে পারে উন্নত ঘ্রাণশক্তি, যা শীতের খাবারের অভাবের সময় কেঁচোর মতো শিকার খুঁজে পেতে সাহায্য করে। তবে আরও শক্ত খাবার খাওয়ার জন্য নাক যান্ত্রিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টি এখনও নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
এই আবিষ্কারটি তুলে ধরে যে স্তন্যপায়ী প্রাণীরা ঋতুভিত্তিক চ্যালেঞ্জগুলোর সাথে কতটা নমনীয়ভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। সম্ভবত হোক্কাইডোর অন্যান্য শ্রু প্রজাতির মধ্যেও এমন পরিবর্তন দেখা যায় এবং বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
এই ধরনের অভিযোজন পর্যবেক্ষণ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে প্রাণীরা তাদের অনন্য টিকে থাকার কৌশলগুলো প্রদর্শন করতে পারে।

