কোস্টারিকার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের কফি বাগানের গভীরে, ঘন সবুজ ঝোপঝাড়ের মধ্যে, বিজ্ঞানীরা এমন একটি ক্ষুদ্র প্রাণীর সন্ধান পেয়েছেন যা পূর্বে বিজ্ঞানীদের কাছে অপরিচিত ছিল। চার সেন্টিমিটারেরও কম দৈর্ঘ্যের এই নিশাচর ব্যাঙের ত্বক সবুজাভ এবং এতে গাঢ় দাগ রয়েছে; এটি ঠিক সেইসব স্থানে বাস করে যেখানে মানুষ কফি চাষ করে। একে "ঝর্ণা-ব্যাঙ" বা রানা দে লাস নাসিয়েন্তেস (Rana de las nacientes) নামে নামকরণ করা হয়েছে, যা বাগানের মধ্যে থাকা ঝর্ণা ও আর্দ্র স্থানের সাথে এর সংযোগকে তুলে ধরে।
কোস্টারিকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আর্জেন্টিনার বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা এই আবিষ্কারটি করেছেন। এই স্থানীয় প্রজাতিটি শুধুমাত্র এই অঞ্চলেই পাওয়া যায় এবং ধারণা করা হচ্ছে যে এটি কফির ঝোপের মধ্যে জীবনের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে। পুরুষ ব্যাঙেরা তাদের স্বচ্ছ গলার থলি ফুলিয়ে ছোট, উচ্চ স্বরের শব্দ করে এবং রাতে তাদের ডালের উপর বসে থাকতে শোনা যায়। ব্যাঙেরা কফির ফল খায় না; বরং তারা ছোট ছোট পোকামাকড় শিকার করে, যেগুলো বাগানের ছায়ায় আশ্রয় নেয়।
এমন আবিষ্কারগুলি দেখায় যে কীভাবে কৃষিভিত্তিক ভূদৃশ্যও লুকানো জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে পারে। কফি বাগানগুলি ছায়া, আর্দ্রতা এবং খাবার সরবরাহ করে, যা প্রাকৃতিক বনের প্রান্তের মতো পরিবেশ তৈরি করে। তবে, এই সম্পর্কটি ভঙ্গুর: ক্ষেতে ব্যবহৃত কৃষি-রাসায়নিক পদার্থ মাটি এবং জলাশয়ে প্রবেশ করতে পারে, যেখানে ব্যাঙাচিদের বিকাশ ঘটে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন যে বিষাক্ত পদার্থগুলি বাতাস এবং মাটির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেইসব ঝর্ণায় পৌঁছায় যার উপর ব্যাঙের জীবন নির্ভর করে। যদিও এই হুমকির সঠিক মাত্রা এখনও সম্পূর্ণরূপে অধ্যয়ন করা হয়নি, তবে এটা স্পষ্ট যে কৃষি পদ্ধতিতে সামান্য পরিবর্তনও এই নতুন প্রজাতির টিকে থাকার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
"ঝর্ণা-ব্যাঙ" এর আবিষ্কার আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, যেখানে মানুষ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, প্রকৃতি সেখানেও নিজস্ব আশ্রয় খুঁজে নিতে সক্ষম। এই ধরনের স্থান সংরক্ষণে সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন যে, বাগানের মাটি ও জলে কী ধরনের পদার্থ প্রবেশ করছে।




