কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করলেও ল্যারি দ্য ক্যাট তার পদেই বহাল রয়েছে। ১৯ বছর বয়সী ডাউনিং স্ট্রিটের এই ‘চিফ মাউসার’ তার জীবনে ইতিমধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর বিদায় প্রত্যক্ষ করল।
বাদামী-সাদা রঙের ল্যারি নামের এই টবি বিড়ালটি ২০১১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ‘ব্যাটারসি ডগস অ্যান্ড ক্যাটস হোম’ থেকে ডাউনিং স্ট্রিটে আসে। তখন থেকেই সে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘চিফ মাউসার’ পদবি ধারণ করছে এবং সেই বাসভবনে অবাধে বিচরণ করছে যেখানে ১৭৩৫ সাল থেকে ব্রিটিশ নেতারা বসবাস করে আসছেন।
এই দীর্ঘ সময়ে ল্যারি ডেভিড ক্যামেরন, থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস, ঋষি সুনাক এবং সর্বশেষ কিয়ার স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ দেখেছে। গত এক দশকের রাজনৈতিক রদবদল ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের একমাত্র এই স্থায়ী বাসিন্দাকে স্পর্শ করতে পারেনি।
এই বিড়ালের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে অতিথিদের স্বাগত জানানো, নিরাপত্তা পরীক্ষা করা এবং সরকারি ওয়েবসাইটের রসিকতা অনুযায়ী ‘ঘুমানোর জন্য প্রাচীন আসবাবপত্রের গুণমান যাচাই করা’। ইঁদুরের সাথে পরিস্থিতির বিষয়টি কিছুটা জটিল: দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পরিকল্পনা এখনও ‘কৌশলগত পর্যায়ে’ রয়েছে।
সরকারি বাসভবনে আসার আগে ল্যারি ছিল গৃহহীন এবং তার শরীরে কোনো শনাক্তকরণ চিপও ছিল না; তাকে একটি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। আজ সে ব্রিটেনের এক সত্যিকারের রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে অনুসরণ করেন: এক্সে (X) তার অনানুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট @Number10cat-এর অনুসারী সংখ্যা ৮ লাখেরও বেশি। গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলোর সময় প্রায়ই তাকে ক্যামেরাবন্দি করা হয় এবং ডোনাল্ড ও মেলানিয়া ট্রাম্পসহ বিশিষ্ট অতিথিদের সাথেও তার ছবি তোলা হয়।
ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মীরাই ল্যারির দেখাশোনা করেন: তারা তাকে খাওয়ান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেন। সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে, এই বিড়ালের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য করদাতাদের অর্থ ব্যয় করা হয় না।
১৮৮০-এর দশক থেকে মূলত ইঁদুর দমনের জন্য সরকারি ভবনগুলোতে বিড়াল রাখা হয়। ল্যারি ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় বিড়াল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
নেতাদের ক্রমাগত পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার এই যুগে ল্যারি এক বিরল স্থিতিশীলতার প্রতীক। সে নির্বাচন বা পদত্যাগের তোয়াক্কা না করে কেবল নিজের মতো করেই দিন অতিবাহিত করছে।
রাজনীতিকরা আসেন এবং চলে যান, কিন্তু ল্যারি এখনও বারান্দা পরিদর্শন এবং সোফা পরীক্ষা করে চলেছে—আর এটিই সম্ভবত বর্তমানে ব্রিটিশ রাজনীতির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দিক।



