সংক্ষেপে উত্তর দিলে: কুকুরের ঘ্রাণশক্তি অনেক বেশি।
বেড়ালও গন্ধ খুব ভালোভাবে বুঝতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে গন্ধের সাহায্যেই দিকনির্দেশনা নেয়, কিন্তু ঘ্রাণশক্তির দিক থেকে বেশিরভাগ কুকুর তাদের চেয়ে স্পষ্টতই এগিয়ে।
কুকুর কেন গন্ধ ভালো বুঝতে পারে
কুকুরের ঘ্রাণতন্ত্র এমনভাবে গঠিত যে তারা আক্ষরিক অর্থেই নাক দিয়ে চারপাশের জগৎ 'পড়ে' ফেলে।
অনেক প্রজাতির কুকুরের প্রায় 200–300 মিলিয়ন ঘ্রাণগ্রাহক থাকে, যেখানে মানুষের থাকে মাত্র কয়েক মিলিয়ন। বেড়ালেরও ঘ্রাণগ্রাহকের সংখ্যা অনেক, কিন্তু গড়ে কুকুরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
শুধু গ্রাহকের সংখ্যাই নয়, কুকুরের মস্তিষ্কের কত বড় অংশ গন্ধ প্রক্রিয়াকরণে নিয়োজিত, সেটিও বিশেষভাবে চিত্তাকর্ষক।
কুকুরের কাছে গন্ধ প্রায় একটি আলাদা তথ্য চ্যানেলের মতো।
সে পার্থক্য করতে পারে:
- নির্দিষ্ট কোনো মানুষের পদচিহ্ন;
- অনেক সময় পরেও অন্য প্রাণীর গন্ধ;
- বাতাসের গঠনে সামান্য পরিবর্তন;
- অত্যন্ত কম ঘনত্বে থাকা কিছু পদার্থ।
এই কারণেই কুকুরকে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে, শুল্ক বিভাগে, পুলিশে এবং এমনকি কিছু চিকিৎসা গবেষণায় ব্যবহার করা হয়।
আর বেড়াল?
বেড়ালের নাককেও অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়।
বেড়াল খাবার, অন্যান্য প্রাণী, এলাকা এবং পরিচিত মানুষের গন্ধ খুব চমৎকারভাবে আলাদা করতে পারে।
তাছাড়া, তাদের বেশ উন্নত ভোমেরোনাসাল অঙ্গবা জ্যাকবসন অঙ্গ রয়েছে। এর সাহায্যে বেড়াল ফেরোমোনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক সংকেত বিশ্লেষণ করে।
এই কারণেই কোনো কিছুর ঘ্রাণ নেওয়ার পর মাঝে মাঝে বেড়াল মুখ কিছুটা খোলা রেখে যেন 'স্থির' হয়ে যায়। এটি কোনো অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি নয়—এভাবে সে গন্ধটিকে আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে।
কে জিতবে?
যদি বিশেষভাবে সংবেদনশীলতা এবং সূক্ষ্ম গন্ধ অনুসরণ করার ক্ষমতারতুলনা করা হয়, তবে কুকুর প্রায় সব সময়ই এগিয়ে থাকবে।
বিশেষ করে সেইসব প্রজাতির ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য, যাদের বিশেষভাবে গন্ধ শুঁকে কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে—যেমন ব্লাডহাউন্ড, বিগল বা মেষপালক কুকুর।
তবে বেড়ালের ঘ্রাণশক্তিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সূক্ষ্ম। শুধু এটি কিছুটা ভিন্নভাবে ব্যবহৃত হয়।
কুকুর সাধারণত নাক দিয়ে চারপাশের পরিবেশ 'স্ক্যান' করে।
আর বেড়াল গন্ধকে দিকনির্ণয়, যোগাযোগ এবং এলাকা চেনার ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহার করে।
একটি মজার বিষয়
বেড়ালের কাছে গন্ধ এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, খুব পরিচিত কোনো মানুষের পাশে থাকলেও সে সতর্ক হয়ে যেতে পারে যদি সেই ব্যক্তির গায়ে অপরিচিত গন্ধ থাকে—যেমন হাসপাতাল থেকে আসার পর, অন্য কোনো প্রাণীর গন্ধ বা কড়া সুগন্ধি।
কুকুরদের ক্ষেত্রেও প্রায় একই রকম ঘটে, তবে তারা সাধারণত গন্ধের জটিল মিশ্রণ আরও দ্রুত 'বুঝে' নিতে পারে।
সুতরাং
কুকুরের ঘ্রাণশক্তি বেশি শক্তিশালী।
এমনকি কিছু প্রজাতির ক্ষেত্রে তা কয়েক গুণ বেশি।
তবে বেড়ালেরও ঘ্রাণশক্তি খুব ভালো এবং আমাদের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি সে নাক দিয়ে জগতকে অনুভব করে।
মানুষ যদি চোখ দিয়ে দেখে, তবে কুকুর অনেকাংশে নাক দিয়ে 'দেখে'।

আর বেড়াল—একই সঙ্গে নাক, কান এবং চোখ দিয়ে দেখে।

