২০২৬ সালের মে মাসে এক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী দল একটি বৃহৎ পরিসরের গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে, যেখানে ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আমেরিকার ৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এই গবেষণায় দেখা গেছে যে দৈনিক দুই থেকে তিন কাপ কফি পান করলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
দশ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে কফির ধরণ বা এটি তৈরির পদ্ধতির ওপর এই সুরক্ষা প্রভাব নির্ভর করে না। মূলত কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ক্যাফেইন মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং নিউরোইনফ্লেমেশন কমিয়ে এই ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।
গবেষণার একটি অপ্রত্যাশিত দিক ছিল এসপ্রেসো এবং ইনস্ট্যান্ট কফি পানকারীদের মধ্যে ফলাফলের কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য না থাকা। এটি কেবলমাত্র প্রাকৃতিক কফি বিন বা দানার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাগুলোকে ভুল প্রমাণ করেছে।
গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের আচরণের ধরন পর্যবেক্ষণ করে লক্ষ্য করেছেন যে, নিয়মিত কফি পানের অভ্যাসটি প্রায়ই বিভিন্ন সামাজিক মেলবন্ধনের সাথে যুক্ত থাকে। এই সামাজিক যোগাযোগগুলো অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমাতে এবং জ্ঞানীয় ক্ষমতা সচল রাখতে বাড়তি সহায়তা করে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটেও ২০২৬ সালের সেই গবেষণালব্ধ ফলাফলগুলো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে পরবর্তী বিভিন্ন বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, চিনি ছাড়া পরিমিত কফি পানের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করলে এর থেকে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায়, এই আবিষ্কারটি বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করা স্নায়ুবিক ক্ষয়রোগ বা নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ প্রতিরোধে সাধারণ খাদ্যাভ্যাসের সম্ভাবনাকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।




