সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে, যার নেপথ্যে রয়েছে ইরান এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে তৈরি হওয়া ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা। এই অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন ব্যবসায়ীরা, কারণ এখানকার যেকোনো উত্তেজনা জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
তেল পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত, যেখান দিয়ে বিশ্ববাজারের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ করার যেকোনো হুমকি বা সামরিক সংঘাতের খবর আসা মাত্রই তেলের দামে তার তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে, যা আমরা আগেও বহুবার দেখেছি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান দাম বৃদ্ধির পেছনে কেবল ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিই নয়, বরং তেহরানের ওপর সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞা বা তাদের পক্ষ থেকে পাল্টা কোনো পদক্ষেপের আশঙ্কাও কাজ করছে। ইরানি কর্মকর্তাদের প্রতিটি বক্তব্য এবং পারস্য উপসাগরে নৌবাহিনীর গতিবিধি সংক্রান্ত যেকোনো খবর বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, হরমুজ প্রণালী কেন্দ্রিক সংকট তেলের উচ্চমূল্যকে টানা কয়েক সপ্তাহ বা এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত বজায় রাখতে সক্ষম। বিনিয়োগকারীরা ২০১৯ সালের সেই সংকটের কথা ভুলে যাননি, যখন জ্বালানি তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনায় অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল।
আঞ্চলিক সংঘাতের হাত থেকে বিশ্ব অর্থনীতিকে নিরাপদ রাখতে বিশেষজ্ঞরা সরবরাহ রুট বহুমুখী করা এবং বিকল্প শক্তির উৎসের বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে বাস্তবতা হলো, তেলের বাজার বর্তমানে পুরোপুরি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির হাতে বন্দি হয়ে রয়েছে।



