বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বন্য আবাসস্থল খনন ও খনিজ উত্তোলনের জন্য উন্মুক্ত করছে ট্রাম্প প্রশাসন

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বন্য আবাসস্থল খনন ও খনিজ উত্তোলনের জন্য উন্মুক্ত করছে ট্রাম্প প্রশাসন-1

২০২৬ সালের ১০ জুলাই, শুক্রবার, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন এমন একটি নিয়ম গ্রহণ করেছে যা বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির আবাসস্থল রক্ষার বিষয়টিকে উল্লেখযোগ্যভাবে শিথিল করে দেবে। এই পরিবর্তনের ফলে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান পরিবেশ আইন ‘এনডেঞ্জার্ড স্পিসিস অ্যাক্ট’-এর অধীনে ‘ক্ষতি’ (harm) শব্দটির সংজ্ঞায় বদল আনা হয়েছে।

এর আগে ‘ক্ষতি’ বলতে আবাসস্থলের এমন বড় ধরণের পরিবর্তন বা মানহানি বোঝাত যা বন্যপ্রাণীর খাবার সংগ্রহ, আশ্রয় বা বংশবৃদ্ধিতে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করত। ১৯৯৫ সালে সুপ্রিম কোর্টও এই ব্যাখ্যাকে সমর্থন করেছিল। তবে নতুন নিয়মে প্রাণীর বাসা বা আবাসস্থল ধ্বংস করাকে আর বেআইনি হিসেবে গণ্য করা হবে না।

এই নতুন নীতিমালার ফলে ওইসব সংরক্ষিত এলাকায় তেল-গ্যাস খনন, খনিজ উত্তোলন, কৃষি কাজ এবং আবাসন নির্মাণের পথ উন্মুক্ত হলো। পরিবেশবিদরা একে গত আধা শতাব্দীর মধ্যে বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে বর্ণনা করছেন। অনেক প্রজাতি এরই মধ্যে উপযুক্ত বাসস্থানের অভাবে সংকটে রয়েছে এবং এই বাড়তি চাপের ফলে তারা আরও দ্রুত বিলুপ্তির পথে ধাবিত হতে পারে।

স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, তারা আইনটিকে এর মূল ভাবধারায় ফিরিয়ে আনছে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা দিতে এই আইনটির অপব্যবহার করা হচ্ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডাগ বারগাম বলেন, “ফেডারেল সংস্থাগুলো বৈধ ভূমি ব্যবহারের পথে বাধা তৈরি করতে এই ইএসএ আইনের অপপ্রয়োগ করত।”

ন্যাশনাল মাইনিং অ্যাসোসিয়েশন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কসহ ১৬টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এই পরিবর্তনের যুক্তিকে “খামখেয়ালি এবং আইনবিরোধী” বলে অভিহিত করেছেন।

এই নিয়মটি নিয়ে জনমতামত যাচাইয়ের সময় প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মন্তব্য জমা পড়েছিল। যার মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশই ছিল এর বিরুদ্ধে। এমনকি রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন কিছু অঙ্গরাজ্য সংস্থাও এর ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করেছিল।

পুরনো নিয়মটি কীভাবে কাজ করত তার কিছু উদাহরণ দেওয়া যাক। লক্ষ্মীপেঁচাদের বাসার জন্য প্রয়োজন হয় নির্জন সমুদ্রসৈকত। লাল-ঠোঁট কাঠঠোকরাদের জীবন পুরোপুরি পুরনো পাইন গাছের ওপর নির্ভরশীল। ক্যালিফোর্নিয়ার টাইগার সালাম্যান্ডারদের জন্য প্রয়োজন হয় মৌসুমি জলাশয়। প্রাণীদের সরাসরি হত্যা না করে কেবল এই আবাসস্থলগুলো ধ্বংস করাকে এখন আর ‘ক্ষতি’ হিসেবে গণ্য করা হবে না।

পরিবেশবাদী সংগঠন আর্থজাস্টিস (Earthjustice) এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে মামলাটি বর্তমান সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছালে রক্ষণশীল বিচারকদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এই পরিবর্তন স্থায়ী রূপ পেতে পারে। কিন্তু যেসব প্রজাতি ইতিমধ্যেই বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, তাদের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী ঘটবে?

আইনজীবীরা বলছেন যে, আবাসস্থলের কারণ দেখিয়ে কোনো প্রকল্প পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা খুব কমই ঘটত। বরং কোম্পানিগুলো সাধারণত ক্ষতি কমিয়ে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করত। এখন থেকে কোম্পানিগুলোর মধ্যে এমন উদ্যোগ নেওয়ার উৎসাহ বা বাধ্যবাধকতা অনেক কমে যাবে।

5 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Trump, Ending Decades of Protection, Opens Wild Habitats to Drilling and Mining

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।