২০১৮-২০১৯ সালে চীনা পণ্যের ওপর মার্কিন প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে এশীয় অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য হ্রাসের পরিবর্তে উল্টো অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এশিয়ার শুল্ক বিভাগগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চীন থেকে সরাসরি রপ্তানি কমে গেলেও দুই বছরের ব্যবধানে ভিয়েতনাম থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।
এই পরিস্থিতির মূল সুফলভোগী দেশগুলো হলো ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ভারত। ভিয়েতনামের কোম্পানিগুলো দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান থেকে যন্ত্রাংশ কেনা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সেই পণ্যগুলো চূড়ান্তভাবে তৈরি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছে। ২০১৯-২০২১ সালের মধ্যে এ ধরনের ট্রানজিট বা পরোক্ষ রপ্তানির পরিমাণ ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীনা নির্মাতারা তাদের উৎপাদন সক্ষমতার একটি অংশ আসিয়ান দেশগুলোতে স্থানান্তর করেছে। সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালে এই অঞ্চলে চীন থেকে সরাসরি বিনিয়োগ ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বাড়তি শুল্ক না দিয়েই মার্কিন বাজারে নিজেদের প্রবেশাধিকার বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
একই সাথে আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন আরও শক্তিশালী হয়েছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে যন্ত্রপাতি এবং সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুল্ক আরোপের পরবর্তী তিন বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়েই এশিয়ার অভ্যন্তরীণ মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ১৪ শতাংশ বেড়েছে।
শুল্ক এড়াতে মার্কিন কোম্পানিগুলোও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাদের ক্রয়াদেশ বা অর্ডার স্থানান্তরের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন শুল্ক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির টেক্সটাইল ও ইলেকট্রনিক্স আমদানিতে ভিয়েতনামের অংশ ২০১৭ সালের ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ১৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সার্বিকভাবে, ওয়াশিংটনের শুল্ক নীতি এশিয়ায় বিকল্প বাণিজ্যিক রুট তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ছাড়াই এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সংহতি আরও দৃঢ় করেছে।



