২০২৬ সালের ১২ মে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর পদত্যাগ সত্ত্বেও তার পদে বহাল থাকার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন। ব্লুমবার্গ জানিয়েছে যে, গত কয়েক দিনে মন্ত্রিসভার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পদত্যাগ করেছেন, যা একটি তীব্র সরকারি সংকটের সৃষ্টি করেছে।
মূলত অর্থনৈতিক নীতি এবং অভিবাসন ইস্যুতে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণেই এই পদত্যাগগুলো ঘটেছে। স্টারমার জোর দিয়ে বলেছেন যে, বর্তমান মন্ত্রিসভা নিয়েই সরকার তার কাজ চালিয়ে যাবে এবং কোনো আগাম নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রী অবশিষ্ট মন্ত্রীদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক করেছেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান সংকট ২০২২-২০২৪ সালের পূর্ববর্তী সরকারি অস্থিরতাগুলোর চেয়ে ভিন্ন। বরিস জনসনের পদত্যাগের সময়ের মতো বর্তমান ঘটনাগুলোতে কোনো ব্যাপক কেলেঙ্কারি নেই, বরং এটি কাঠামোগত প্রকৃতির। স্টারমার সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সমর্থনের ওপর ভরসা রাখছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা। বিরোধী দল আগাম নির্বাচনের দাবি জানালেও আগামী মাসগুলোতে তা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকরা সামনের সপ্তাহগুলোতে পার্লামেন্টে হতে যাওয়া ভোটাভুটির ওপর কড়া নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।
মে মাসের শেষ দিকে বাজেট নিয়ে ভোটাভুটি একটি প্রধান নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে: যদি স্টারমার বড় কোনো ক্ষতি ছাড়াই এটি পাস করতে পারেন, তবে সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে ধরে নেওয়া হবে। অন্যথায়, প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ আরও বাড়বে।
এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, আনুষ্ঠানিক সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কতটা ভঙ্গুর হতে পারে।



