মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ সালের ১৫ জুন ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ-তে আয়োজিত জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে পৌঁছেছেন, যেখানে তিনি যুদ্ধ অবসানে ইরানের সাথে একটি প্রাথমিক সমঝোতা পেশ করেন এবং ইউক্রেনীয় সংঘাত নিরসনে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
শুল্ক এবং অভিবাসন সংক্রান্ত চলমান উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই জি-৭ নেতারা এই চুক্তির খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করছেন, যার ফলে ইতিমধ্যে জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়েছে।
ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সভাপতিত্বে ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ট্রাম্প জানান যে, ইরানের সাথে ইতিমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং বেশ কিছু জাহাজ কোনো শুল্ক ছাড়াই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে শুরু করেছে। তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, এখন তিনি ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে আলোচনার দিকে মন দিতে চান এবং তারা সংলাপে আগ্রহী বলে উল্লেখ করেন। জেলেনস্কি সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সাথে বৈঠকের প্রস্তাব দিলেও রুশ নেতা তাতে এখনও সম্মতি জানাননি।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের অবস্থানে ভিন্নতা দেখা গেছে: ট্রাম্প ইরান চুক্তির সাফল্যের ওপর জোর দিয়ে ইউক্রেন সংকটের দ্রুত সমাধান চাইছেন, অন্যদিকে ম্যাক্রোঁসহ ইউরোপীয় নেতারা ওয়াশিংটনের একতরফা সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য নতুন শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জেলেনস্কি অতিরিক্ত সহায়তার নিশ্চয়তা পাওয়ার চেষ্টা করছেন, আর ইউরোপীয় দেশগুলো ট্রান্স-আটলান্টিক ঐক্য দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে।
এই ঘটনা এটাই নির্দেশ করে যে, ইরান চুক্তি ট্রাম্পকে ইউক্রেন ইস্যুতে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে, তবে এর সাফল্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের আপস করার সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। তেহরানের সাথে চুক্তির বিস্তারিত নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং জি-৭ জোটের ভেতরে সম্ভাব্য নতুন বাণিজ্য বিতর্কই এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
আগামী সপ্তাহগুলোতে জেলেনস্কির সাথে ট্রাম্পের বৈঠকের ফলাফল এবং পুতিনের সাথে সম্ভাব্য সাক্ষাতের কোনো সংকেত আসে কি না সেদিকে নজর রাখতে হবে। এই পদক্ষেপগুলোর সাফল্য বা ব্যর্থতাই নির্ধারণ করবে যে, নতুন কোনো উত্তেজনা ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্য থেকে পূর্ব ইউরোপে ফোকাস সরিয়ে নেওয়া সম্ভব কি না।



