মার্কিন বাজারে সুবিধা হারানোর পর ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করছে কানাডা ও যুক্তরাজ্য

সম্পাদনা করেছেন: Svitlana Velhush

মার্কিন বাজারে সুবিধা হারানোর পর ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করছে কানাডা ও যুক্তরাজ্য-1

গত কয়েক দিনে কানাডা ও যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বৃদ্ধির আলোচনা জোরদার করেছে, যার লক্ষ্য মার্কিন বাজারে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া। ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, উভয় দেশের সরকারি কর্মকর্তারা ব্রাসেলস ও লন্ডনে ধারাবাহিক কিছু বৈঠক করেছেন, যেখানে কাঁচামাল সরবরাহ এবং যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্পের নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে ওয়াশিংটনের নতুন শুল্ক বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি এবং যুক্তরাজ্যের ইউরোপ বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি প্রবাহ সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছেন। সূত্রমতে, এই আলোচনায় অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাত সরবরাহের নির্দিষ্ট কোটা এবং ন্যাটোর কাঠামোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এর তাৎক্ষণিক প্রেক্ষাপট ছিল অক্টোবর মাসের শুরুতে মার্কিন প্রশাসনের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত, যার ফলে গত দুই সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার রপ্তানি ১২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান বাণিজ্যের বিশাল পরিমাণ এই কাঠামোগত চাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে: কানাডা প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ৪০০ বিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্য ১২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদনে রেকর্ডকৃত এই পরিসংখ্যানগুলো ইউরোপীয় বাজারের দিকে মোড় নেওয়াকে কার্যত অনিবার্য করে তুলেছে।

অটোয়া এবং লন্ডনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হলো আটলান্টিক-পারের অংশীদারিত্ব বজায় রাখা, তবে বাস্তব স্বার্থ এখন বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তাকেই নির্দেশ করছে। প্রাদেশিক অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে কানাডার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে নিশ্চিত সরবরাহ প্রয়োজন, অন্যদিকে ব্রেক্সিট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য আর্থিক সেবার জন্য নতুন পথ খুঁজছে। অবশ্য কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণমূলক বা রেগুলেটরি ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট কোনো ছাড়ের কথা জানায়নি।

এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, মার্কিন বাজারের সুযোগ হারানোয় আমেরিকার মিত্ররা ইউরোপে দ্রুত বিকল্প জোট গড়তে বাধ্য হচ্ছে। মূল বক্তব্য হলো, ব্রাসেলসের আলোচনা যদি নভেম্বরের শেষ নাগাদ চুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দিতে পারে। এর বিপরীত যুক্তিটিও রয়েছে—অর্থাৎ এটি একটি সাময়িক প্রতিক্রিয়া যা মার্কিন নীতির পরিবর্তনে বদলে যেতে পারে—যা আগামী দিনের বৈঠকগুলোর ফলাফলের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

আগামী ছয় সপ্তাহের জন্য মূল পর্যবেক্ষণের বিষয় হবে ব্রাসেলসের আলোচনার পর প্রকাশিতব্য যৌথ ইশতেহার এবং ইইউ-তে নতুন চুক্তির পরিমাণ। যদি এই পরিসংখ্যানগুলো হারানো মার্কিন রপ্তানির ১৫ শতাংশের বেশি হয়, তবে এই রূপান্তরের প্রবণতাটি স্থায়ী রূপ নেবে।

এই পদক্ষেপগুলো পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায় যে, চিরাচরিত মিত্ররা নতুন বাণিজ্যিক বাস্তবতার সাথে কতটা দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম।

7 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Is Global Europe the answer to shifting alliances? MEPs debate in The Ring

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।