সুপার-আর্থ এবং মিনি-নেপচুনগুলো আকারে প্রায় একই মনে হলেও এদের কক্ষপথের বিবর্তনের ইতিহাস সম্পূর্ণ ভিন্ন। চীনা জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে, এই গ্রহগুলো বিবর্তনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র দুটি পথ অনুসরণ করেছে।
চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেস-এর ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরির একদল গবেষক ল্যামোস্ট (LAMOST) টেলিস্কোপ, গাইয়া (Gaia) স্যাটেলাইট এবং কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ থেকে প্রাপ্ত বিশাল তথ্যের ভাণ্ডার বিশ্লেষণ করেছেন। এই গবেষণার ফলাফল ২০২৬ সালের ১৭ জুন ‘সায়েন্স’ (Science) জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। মূলত পাথর ও লোহা দিয়ে গঠিত সুপার-আর্থগুলো বিশৃঙ্খল গ্রহব্যবস্থার মধ্যে টিকে থাকা ‘সারভাইভার’ বা উত্তরজীবী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে: মহাকর্ষীয় মিথস্ক্রিয়া এবং সংঘর্ষের কারণে শুরুতে তাদের কক্ষপথগুলো অত্যন্ত দীর্ঘায়িত হলেও পরবর্তীতে টাইডাল ফোর্সের প্রভাবে তা দ্রুত বৃত্তাকার হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, ঘন গ্যাসের আবরণযুক্ত মিনি-নেপচুনগুলোর বিবর্তন ছিল বেশ শান্ত প্রকৃতির। কোনো নাটকীয় ঘটনা ছাড়াই এদের কক্ষপথ ধীর ও মসৃণভাবে পরিবর্তিত হয়েছে এবং এদের উৎকেন্দ্রিকতা ধীরে ধীরে বাইরের অঞ্চল থেকে ভেতরের দিকে সঞ্চারিত হয়েছে। এই গবেষণার সংশ্লিষ্ট লেখক সিয়া জিওয়েই উল্লেখ করেছেন, “সুপার-আর্থ এবং মিনি-নেপচুন দেখতে একই রকম মনে হতে পারে, কিন্তু এদের ‘চরিত্র’ সম্পূর্ণ আলাদা।”
এই আবিষ্কার গ্রহ ব্যবস্থার গঠন সম্পর্কে আমাদের ধারণা পাল্টে দিচ্ছে: এখন এটি স্পষ্ট যে একই ব্যাসার্ধের জগতগুলো যে সবসময় একই উৎস থেকে সৃষ্টি হবে, তা আবশ্যিক নয়। এই জগতগুলো ঠিক কীভাবে তৈরি হলো এবং টিকে রইল, তা বোঝার মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে এদের কক্ষপথের গতিশীল ইতিহাস।
ল্যামোস্ট, গাইয়া এবং কেপলারের তথ্যের ভিত্তিতে কক্ষপথের পর্যায়কাল এবং উৎকেন্দ্রিকতার অনুপাত বিশ্লেষণ করে এই দুই ধরনের গ্রহগোষ্ঠীকে আলাদা করা সম্ভব হয়েছে। তাদের স্বাধীন বিবর্তন প্রক্রিয়ার পক্ষে এটিই প্রথম পরিসংখ্যানগতভাবে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ।
