মহাবিস্ফোরণের প্রায় ১.২ বিলিয়ন বছর পরের সময়ের লোকটাক প্রোটোক্লাস্টারে দেখা গেছে যে, ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলের গ্যালাক্সিগুলোর গঠন ও বিকাশের ওপর পার্শ্ববর্তী পরিবেশের প্রভাব ইতিমধ্যেই পরিলক্ষিত হচ্ছিল।
জাপানের ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরির একদল গবেষক এই প্রোটোক্লাস্টারটি শনাক্ত করতে হাওয়াইয়ের সুবারু টেলিস্কোপের 'হাইপার সুপ্রিম-ক্যাম' এবং বিস্তারিত গবেষণার জন্য জেডব্লিউএসটি-র ইনফ্রারেড ডেটা ব্যবহার করেছেন। ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত এই পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রোটোক্লাস্টারের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের গ্যালাক্সিগুলো দৃশ্যমান আলোতে (যা মূলত পরিণত নক্ষত্রের বিন্যাস নির্দেশ করে) সমসাময়িক কম ঘনত্বের 'ফিল্ড' অঞ্চলের গ্যালাক্সির তুলনায় গড়ে প্রায় ১.৪ গুণ বড় ছিল।
এই বস্তুগুলোর রেডশিফট বা লোহিত বিচ্যুতি হলো z ≃ ৪.৯ (অর্থাৎ এগুলো প্রায় ১২.৬ বিলিয়ন বছর আগের)। এটি এখন পর্যন্ত জানা প্রাচীনতম প্রোটোক্লাস্টারগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে গ্যালাক্সির কাঠামোর ওপর পরিবেশের প্রভাব সুস্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
আধুনিক গ্যালাক্সি স্তবকগুলোতে যেখানে নক্ষত্র গঠন প্রক্রিয়া থমকে যেতে দেখা যায়, সেখানে এই প্রোটোক্লাস্টারের ক্ষেত্রে পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে তাদের বাহ্যিক রূপতত্ত্বে; তবে আল্ট্রাভায়োলেট বা অতিবেগুনি রশ্মির পর্যবেক্ষণে (যা সক্রিয় নক্ষত্র গঠন নির্দেশ করে) গ্যালাক্সিগুলোর আকারে কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ঘন পরিবেশের গ্যালাক্সিগুলো তাদের বাইরের স্তরের নক্ষত্রপুঞ্জ দ্রুত গঠন করলেও এদের কেন্দ্রীয় নক্ষত্র গঠনকারী অঞ্চলগুলো অন্যান্য সাধারণ গ্যালাক্সির মতোই বিকশিত হচ্ছিল।
এই পর্যবেক্ষণ থেকে বোঝা যায় যে, মহাবিশ্বের বিবর্তনের প্রথম এক বিলিয়ন বছরের মধ্যেই গ্যালাক্সির ওপর পরিবেশের প্রভাব শুরু হয়েছিল, যা আগের বৈজ্ঞানিক মডেলগুলোর ধারণার চেয়ে অনেক বেশি আগেকার ঘটনা।


