বৃহস্পতির চেয়ে চার গুণ ভরের এক্সোপ্ল্যানেট HD 80606 b একটি অত্যন্ত দীর্ঘায়িত কক্ষপথে ছুটে চলেছে এবং প্রতি ১১১ দিন অন্তর এটি সূর্যের মতো দেখতে এর নক্ষত্রের খুব কাছাকাছি চলে আসে। কক্ষপথের সবচেয়ে কাছের অবস্থানে আসার সময় এর বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ১১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত বেড়ে যায় — আর নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ প্রথমবারের মতো সরাসরি এই প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করেছে।
গবেষকরা ২০২৬ সালের ১৬ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার পাসাডেনায় অনুষ্ঠিত আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির ২৪৮তম বৈঠকে তাদের প্রাথমিক ফলাফলগুলো উপস্থাপন করেছেন। এই গবেষণার মূল লেখক হলেন নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির টিফানি কাটারিয়া। কক্ষপথের নিকটতম বিন্দু বা পেরিঅ্যাস্ট্রনের আগে, চলাকালীন এবং পরে গ্রহটিকে পর্যবেক্ষণের জন্য গবেষক দলটি জেমস ওয়েবের ‘MIRI’ যন্ত্রটি ব্যবহার করেছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে গ্রহটির তাপমাত্রা এবং বায়ুমণ্ডলের রাসায়নিক গঠনে আমূল পরিবর্তন ঘটে।
এর আগে স্পিৎজার টেলিস্কোপ এই তীব্র তাপমাত্রার পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করেছিল, তবে জেমস ওয়েব এবার মিথেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো সুনির্দিষ্ট অণুগুলো শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এই গ্রহটি, যা ইতিমধ্যে ‘ঝলসানো এক্সোপ্ল্যানেট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, বিজ্ঞানীদের জন্য এক আদর্শ গবেষণাগারে পরিণত হয়েছে: মাত্র একটি পরিক্রমায় জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন তাপমাত্রা ও পরিস্থিতির তথ্য পাচ্ছেন, যা সাধারণত অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন বস্তু পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হয়।
দীর্ঘায়িত কক্ষপথ বিশিষ্ট এই ধরনের ‘হট জুপিটার’ গ্রহগুলো বেশ বিরল, এবং HD 80606 b তাদের মধ্যে অন্যতম চরমভাবাপন্ন একটি উদাহরণ। এর আচরণ গ্যাসীয় দৈত্যাকার গ্রহগুলোর বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চালন এবং মেঘ তৈরির মডেলগুলোকে নতুন করে মূল্যায়ন করতে বাধ্য করছে। সংগৃহীত তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, এই গ্রহের উত্তপ্ত হওয়ার বিষয়ে আগের করা হিসাবগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ছিল।
জেমস ওয়েবের জটিল সময়সূচী এবং গ্রহটির দীর্ঘায়িত কক্ষপথের কারণে এই পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করতে কয়েক বছর সময় লেগেছে। এখন বিজ্ঞানীদের হাতে বর্ণালী বা স্পেকট্রার একটি বিশাল তথ্যভাণ্ডার রয়েছে এবং তাদের মূল কাজ কেবল শুরু হচ্ছে। পরবর্তী বিশ্লেষণগুলো এই ‘ঝলসানো’ গ্রহের তাপ বিন্যাস এবং রাসায়নিক বণ্টন সম্পর্কে আরও নিখুঁত মানচিত্র প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
