বিজ্ঞান বলছে: বিড়াল কেবল তখনই মানুষকে সাহায্য করে যখন এতে তাদের নিজস্ব স্বার্থ থাকে

সম্পাদনা করেছেন: Katerina S.

বিজ্ঞান বলছে: বিড়াল কেবল তখনই মানুষকে সাহায্য করে যখন এতে তাদের নিজস্ব স্বার্থ থাকে-1

Animal Behaviour সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্য করার ক্ষমতার ক্ষেত্রে বিড়াল ও কুকুরের মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য খুঁজে পাওয়া গেছে। বুদাপেস্টের ইওটভোস লোরান্ড ইউনিভার্সিটি (ELTE) এবং HUN-REN–ELTE কম্পারেটিভ ইথোলজি রিসার্চ গ্রুপের বিজ্ঞানীরা পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, কুকুর, বিড়াল এবং ১৬-২৪ মাস বয়সী শিশুরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় যখন পরিচিত কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি তার লুকানো কোনো জিনিস খুঁজে পেতে সাহায্য চায়। এই পরীক্ষায় ৩৮টি কুকুর এবং ২২টি বিড়ালের পাশাপাশি ১৯টি শিশু অংশ নিয়েছিল।

গবেষণার পদ্ধতিটি ছিল বেশ সহজ: একটি পরিচিত পরিবেশে মালিক বা অভিভাবক একটি বাসুন ধোয়ার স্পঞ্জ খুঁজছিলেন যা পরীক্ষার পাত্রের সামনেই লুকানো ছিল, এবং বারবার বলতে থাকেন, "আমি এটি খুঁজে পাচ্ছি না। এখন কী করব?"। এখানে মূল বিষয়টি ছিল — কোনো প্রাপ্তবয়স্ক বা মালিক সরাসরি সাহায্যের অনুরোধ করেননি। অধিকাংশ কুকুর এবং শিশু — ৭৫%-এরও বেশি — দ্রুত সাড়া দিয়েছিল: তারা হয় জিনিসটি কোথায় আছে তা নির্দেশ করেছিল অথবা সেটি নিয়ে এসেছিল। কোনো ধরণের প্রশিক্ষণ, শিক্ষা বা পুরস্কারের প্রলোভন ছাড়াই তারা এই আচরণ প্রদর্শন করেছিল, এমনকি সেই স্পঞ্জটি তাদের কাছে একেবারেই আগ্রহহীন ছিল।

বিড়ালদের আচরণ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা পরিস্থিতিটি লক্ষ্য করলেও খুব কমই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল — এমনকি স্পঞ্জটি তাদের চোখের সামনে থাকলেও। প্রাণীরা আসলে বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল নাকি সাহায্য করার মানসিকতা ছিল না তা যাচাই করতে গবেষকরা একটি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা চালান। এবার তারা স্পঞ্জের বদলে বিড়ালের কাছে সত্যিই মূল্যবান কিছু লুকান: যেমন তাদের প্রিয় খাবার বা খেলনা। ফলাফল ছিল চোখে পড়ার মতো: এই ক্ষেত্রে বিড়ালরা কুকুর এবং শিশুদের মতোই সক্রিয় ও সাহায্যকারী আচরণ করেছিল — তারা লুকানো বস্তুর কাছে এগিয়ে যায় এবং সেটি নির্দেশ করে। এটি জোরালোভাবে প্রমাণ করে যে বিড়ালরা পরিস্থিতিটি পুরোপুরি বুঝতে পারলেও কেবল তখনই সাহায্য করে যখন সেখানে তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত থাকে।

গবেষণার প্রধান লেখক এবং তুলনামূলক আচরণতাত্ত্বিক মেলিত্ত্যা চেপ্রেগি বিবর্তনীয় দৃষ্টিভিকোণ থেকে এই ফলাফলের ব্যাখ্যা দিয়েছেন: "কুকুর এবং ছোট শিশুরা বিবর্তনীয়ভাবে অন্যের সমস্যাকে নিজের সমস্যা হিসেবে গ্রহণ করার জন্য তৈরি। পোষ মানানোর প্রক্রিয়া (কুকুরের ক্ষেত্রে) এবং সামাজিক দলের মধ্যে বেড়ে ওঠার মাধ্যমে এটি তাদের স্বভাবের অংশ হয়ে গেছে।" বিড়ালরা অবশ্য ভিন্ন পথে হেঁটেছে। তারা অনেক বেশি স্বনির্ভর থাকে — মানুষের প্রয়োজন তারা বুঝতে পারে, কিন্তু কেবল ব্যক্তিগত লাভের সম্ভাবনা থাকলেই তারা হস্তক্ষেপ করে। গবেষণায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন না এমন বিশেষজ্ঞরা এই পদ্ধতিটিকে মানুষের পাশে বসবাসকারী প্রজাতিগুলোর মধ্যে সামাজিক আচরণের গভীর পার্থক্যের একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং অপ্রত্যাশিত প্রমাণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

কেন বিড়ালদের কুকুরের তুলনায় অনেক বেশি স্বাধীনচেতা এবং উদাসীন মনে হয়, এই গবেষণা তার কারণ উন্মোচন করেছে। এটি ভালোবাসার অভাব বা "নিষ্ঠুরতা" নয় — বরং এটি একটি ভিন্ন বিবর্তনীয় কৌশলের ফল, যেখানে সাহায্যকারীর নিজের জন্য কোনো প্রত্যক্ষ উদ্দীপনা না থাকলে অন্যদের সাহায্য করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না। বিড়াল মালিকদের জন্য এর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে: দৈনন্দিন জীবনে পোষা প্রাণীর কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সাহায্যের প্রত্যাশা করা — যেমন পড়ে যাওয়া কোনো জিনিস নিয়ে আসা — উচিত নয়। বিড়াল কেবল তখনই সাহায্য করতে আসবে যদি বিষয়টি সত্যিই তাকে আকৃষ্ট করে।

এই গবেষণাটি জোর দেয় যে, হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের পাশে বাস করলেও প্রাণীদের সামাজিক আচরণ বিবর্তনীয় ইতিহাসের মাধ্যমে কতটা গভীরভাবে ভিন্ন পথে পরিচালিত হয়। মানুষের মধ্যে থাকা অন্যের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সাহায্যের মানসিকতা বিড়ালদের মধ্যে গড়ে ওঠার জন্য কেবল পোষ মানানো বা দীর্ঘকাল একসাথে বসবাসই যথেষ্ট ছিল না।

20 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Science confirms: Cats help you only when there’s something in it for them

  • Dogs are more like toddlers than cats when it comes to helping humans

  • Собаки похожи на детей, кошки — на независимых взрослых

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।