২০২৬ সালের জুলাই মাসে অ্যাপ্লায়েড অ্যানিম্যাল বিহেভিয়ার সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত ঘেন্ট ইউনিভার্সিটি এবং লিংকন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণা বিড়াল সম্পর্কে প্রচলিত অন্যতম জনপ্রিয় ভুল ধারণাটি ভেঙে দিয়েছে। দেখা গেছে যে 'মিউচুয়াল গ্রুমিং' বা বিড়ালদের একে অপরকে চাটা শুধুমাত্র সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার মাধ্যম নয়। কখনও কখনও এটি মানসিক চাপ, গোপন দ্বন্দ্ব বা আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।
গবেষকরা মোট ৫৩টি বাড়িতে ১০৬টি বিড়ালের ওপর ভিডিওর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ চালিয়েছেন এবং তাদের আচরণের দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত প্রেক্ষাপট খুঁজে পেয়েছেন। প্রথমটি হলো বন্ধুসুলভ গ্রুমিং—যেখানে বিড়ালরা শান্তভাবে একে অপরের ঘাড় এবং পিঠ চাটতে থাকে, একইভাবে দেহভঙ্গি বজায় রাখে এবং একে অপরের সংস্পর্শ খোঁজে। এটি বিড়ালদের মধ্যকার সামাজিক বন্ধনকে সত্যিই মজবুত করে। তবে একটি দ্বিতীয় দিকও রয়েছে: সামাজিক উত্তেজনার পরিস্থিতিতে একে অপরকে চাটা।
গবেষক মরগান ভ্যান বেল জানান, দ্বিতীয় ক্ষেত্রে চিত্রটি একদম ভিন্ন। একটি বিড়াল এগিয়ে এসে অন্যটিকে চাটতে শুরু করে, তবে তা আদরের জন্য নয়; এক্ষেত্রে আচরণ অনেকটা জোরালো বা জেদি হয়, 'শিকার' বিড়ালটির কান গুটিয়ে যায় এবং সে স্পর্শ এড়াতে মাথা সরিয়ে নেয়। অনেক সময় এই ধরনের ঘটনা ফোঁস শব্দ বা এমনকি কামড়ের মাধ্যমে শেষ হয়।
গবেষণার অন্যতম লেখক নোয়েমা গাইদোস-কমেটসোভার মতে, বিড়ালরা সরাসরি মারামারি এবং মারাত্মক ক্ষত এড়াতে এমন ছদ্মবেশী যোগাযোগ ব্যবস্থা পছন্দ করে। এই পরিস্থিতিতে চাটা একটি সূক্ষ্ম কৌশলে পরিণত হয়—যার মাধ্যমে সরাসরি দ্বন্দ্বে না জড়িয়েই 'দূরে সরে যাও' বলা বা নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা সম্ভব হয়।
একাধিক বিড়ালের মালিকদের জন্য এর অর্থ হলো তাদের পোষা প্রাণীদের শারীরিক ভাষা আরও মনোযোগ দিয়ে বুঝতে হবে। সব ধরনের চাটনই বন্ধুত্বের নিদর্শন নয়। যে বিড়ালটিকে চাটা হচ্ছে সে যদি কান নিচু করে রাখে, মাথা ঘুরিয়ে নেয় বা ঘন ঘন চোখের পলক ফেলে, তবে এটি কোনো আরামদায়ক জায়গার দখল, মালিকের মনোযোগ বা কেবল আধিপত্য বিস্তারের লড়াই হতে পারে। বন্ধুসুলভ (অ্যাফিলিয়েটিভ) এবং সংঘাতপূর্ণ (অ্যাগনিস্টিক) গ্রুমিংয়ের পার্থক্য তাদের দেহভঙ্গির মিল দেখে বোঝা যায়: যখন উভয় বিড়াল একই অবস্থানে বসে বা শুয়ে থাকে এবং একে অপরের সান্নিধ্য চায়, সেটি প্রকৃত ভালোবাসার লক্ষণ; কিন্তু যখন একটি বিড়াল অন্যটির ওপর অসম ভঙ্গিতে ঝুঁকে থাকে, সেটি উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়।
ঘেন্ট ইউনিভার্সিটি এবং লিংকন ইউনিভার্সিটির এই গবেষণা প্রমাণ করে যে বিড়ালের সামাজিক গতিশীলতা আমরা যতটা ভাবি তার চেয়েও অনেক বেশি জটিল। অ্যালোগ্রুমিং হলো যোগাযোগের বিভিন্ন কৌশলের একটি বিস্তৃত পরিসর, যার প্রতিটিই বিড়াল সমাজে আলাদা আলাদা অর্থ বহন করে।



