মার্কিন ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ একটি শক্তিশালী এল নিনো সৃষ্টির সম্ভাবনা ৯৫ শতাংশেরও বেশি। প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে ইতিমধ্যেই এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, যেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।
একটি শক্তিশালী এল নিনো পুরো বিশ্বের স্বাভাবিক আবহাওয়া পরিস্থিতিকে ওলটপালট করে দিতে সক্ষম। এর প্রভাবে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় খরার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যা গম ও ধান উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের আকস্মিক পরিবর্তন বিশ্বের বহু দেশের খাদ্য ও জ্বালানি মূল্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ শক্তিশালী হওয়ার মূল কারণ হলো অয়ন বায়ুর দুর্বলতা, যা সাধারণত উষ্ণ জলস্রোতকে পশ্চিম দিকে ঠেলে নিয়ে যায়। বাতাসের গতি যখন স্তিমিত হয়ে আসে, তখন উষ্ণতা দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলীয় অঞ্চলে জমা হয় এবং নিরক্ষরেখা বরাবর ছড়িয়ে পড়ে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান এই চক্রটি ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের তীব্রতাকেও হার মানাতে পারে।
সহজভাবে বলতে গেলে, মহাসাগরকে যদি একটি বিশালাকার থার্মোস্ট্যাট হিসেবে ধরা হয়, তবে অয়ন বায়ুরূপী ফ্যানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাপ খুব দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে সমুদ্রের তাপমাত্রার যে মাপ নেওয়া হয়েছে, সেখানে ঠিক এই দৃশ্যই ধরা পড়েছে।
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন অঞ্চলে অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহ এবং ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ পরিবর্তনের মতো ঘটনার মধ্য দিয়ে এর প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, আগামী কয়েক মাস জুড়ে এই পরিস্থিতি যেভাবে বিকশিত হবে, কেবল তখনই এর প্রভাবের প্রকৃত মাত্রা পুরোপুরি স্পষ্ট হবে।



