ইরাক ৮.৮ বিলিয়ন ব্যারেল মজুত সমৃদ্ধ একটি বিশাল তেল ক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে

লেখক: Tatyana Hurynovich

ইরাক ৮.৮ বিলিয়ন ব্যারেল মজুত সমৃদ্ধ একটি বিশাল তেল ক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে-1

বাগদাদ, ৬-৭ মে ২০২৬ — ইরাকের তেল মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজাফ প্রদেশে গত এক দশকের মধ্যে অন্যতম বৃহত্তম একটি তেল ক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই নতুন ক্ষেত্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৮.৮ বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি।

আবিষ্কারের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ

তেল ক্ষেত্রটি ইরাকের দক্ষিণ-পশ্চিমে নাজাফ প্রদেশে অবস্থিত ‘কুরনাইন’ (আল-কুরনাইজ) ব্লকে পাওয়া গেছে, যা বাগদাদ থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরে ইরাক-সৌদি আরব সীমান্ত বরাবর অবস্থিত। এই ব্লকের মোট আয়তন ৮,৭৭৩ বর্গকিলোমিটার, যা এই অঞ্চলের অন্যতম সম্ভাবনাময় অনুসন্ধান এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে উচ্চমানের হালকা তেল আহরণ করা হচ্ছে। ‘শামস-১১’ নামক প্রথম অনুসন্ধান কূপ থেকে প্রতিদিন ৩,২৪৮ ব্যারেল তেল উৎপাদনের সক্ষমতা দেখা গেছে।

এই অনুসন্ধানের চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর। চীনা কোম্পানি ঝেনহুয়া অয়েল (ZhenHua Oil) এখানে অনুসন্ধানমূলক খনন এবং সিসমিক জরিপ পরিচালনা করছে; তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কুরনাইন পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ইরাকি অংশীদারদের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে।

চীনা বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে দ্রুত উন্নয়ন

ইরাকের তেল মন্ত্রী হায়ান আব্দুল গনির সাথে ঝেনহুয়া অয়েলের প্রতিনিধিদের এক বৈঠকের সময় এই আবিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। চীনা প্রতিষ্ঠানটি একটি দ্রুত বিনিয়োগ পরিকল্পনা পেশ করেছে, যার লক্ষ্য হলো এই তেল ক্ষেত্রের উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং যত দ্রুত সম্ভব বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা।

প্রেক্ষাপট: জ্বালানি সংকটে ইরাক

ইরাকি তেল রপ্তানিতে চরম সংকটের পরিস্থিতির মাঝেই এই আবিষ্কারের খবরটি এলো। প্রমাণিত তেল মজুতের দিক থেকে ইরাক বর্তমানে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে—দেশটির ১৪৫ বিলিয়ন ব্যারেল মজুত মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ১৭% এবং বিশ্বব্যাপী মজুতের ৮%।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আগে ইরাক প্রতিদিন প্রায় ৪৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত এবং ওপেক (OPEC) দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে ছিল। তখন দৈনিক রপ্তানি ছিল প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল, যার ৯০ শতাংশই হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে পাঠানো হতো।

২০২৬ সালের মার্চ মাসে মাসিক রপ্তানি কমে ১৮.৬ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে আসে এবং রপ্তানি আয় হ্রাস পেয়ে ১.৯৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়—যা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৮১% কম, যখন ইরাক ৯৯ মিলিয়ন ব্যারেল রপ্তানি করে ৬.৮১ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। ২০২৬ সালের এপ্রিলে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে রপ্তানি ছিল মাত্র ১০ মিলিয়ন ব্যারেল—যা স্বাভাবিক মাসিক ৯৩ মিলিয়ন ব্যারেল রপ্তানির তুলনায় ৯ গুণ কম।

রপ্তানি হ্রাসের মূল কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং বিশ্ববাজারে ইরাকি জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত এই প্রণালীটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

বাগদাদের কৌশলগত পদক্ষেপ

ইরাক বর্তমানে বসরা-হাদিতা (সিরিয়া সীমান্ত সংলগ্ন আনবার প্রদেশ) নামক একটি বিশাল তেল পাইপলাইন নির্মাণ ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছে, যার পরিকল্পিত রপ্তানি ক্ষমতা প্রতিদিন ২৫ লাখ ব্যারেল। এটি বাস্তবায়িত হলে রপ্তানি পথ বহুমুখী হবে এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

এই আবিষ্কারের গুরুত্ব

সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকের জ্বালানি খাতে এই আবিষ্কারকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কুরনাইন ব্লকের এই তেল ক্ষেত্রটি একটি কৌশলগত সম্পদে পরিণত হতে পারে, যা হরমুজ প্রণালী দিয়ে রপ্তানি হ্রাসের ক্ষতি আংশিকভাবে পুষিয়ে দেবে এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে ইরাকের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

এই প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ বাগদাদের সাথে বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে এবং বিশ্ববাজারে চাহিদাসম্পন্ন উচ্চমানের হালকা তেলের নতুন উৎস হিসেবে চীনের জন্য সুযোগ তৈরি করবে।

6 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Более 8,8 миллиардов баррелей нефти: Ирак открыл гигантское месторождение у границы с Саудовской Аравией

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।