২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ওশেনোগ্রাফি সেন্টার (National Oceanography Centre, NOC) Revealing the Hidden Soundscapes of the Deep North Atlantic (“গভীর উত্তর আটলান্টিকের লুকানো শব্দচিত্র উন্মোচন”) প্রকল্পটি চালু করার ঘোষণা দিয়েছে।
গভীর সমুদ্রের শব্দচিত্র নিয়ে ব্যাপক অধ্যয়নের জন্য এটিই প্রথম একটি বড় আকারের কর্মসূচি। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো উত্তর আটলান্টিকের অন্যতম পূর্ণাঙ্গ অ্যাকোস্টিক মানচিত্র তৈরি করা এবং প্রায় অনাবিষ্কৃত শব্দগুলো সমুদ্রের জীবন সম্পর্কে কী তথ্য দিতে পারে তা বোঝা।
JC278 অভিযানের অংশ হিসেবে, বিজ্ঞানীরা সাতটি স্বয়ংক্রিয় হাইড্রোফোন স্থাপন করবেন, যা এক বছর ধরে উত্তর আটলান্টিকের গভীরের সমস্ত শব্দ ক্রমাগত রেকর্ড করবে। একই সময়ে, দুটি অনন্য বৈজ্ঞানিক স্থানে পর্যবেক্ষণ চালানো হবে।
প্রথমটি হলো Porcupine Abyssal Plain Sustained Observatory (PAP-SO), যা আয়ারল্যান্ড থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ৪৮৫০ মিটার গভীরে অবস্থিত। এটি বিশ্বের প্রাচীনতম গভীর সমুদ্র গবেষণা কেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি। ১৯৮৫ সাল থেকে এখানে সমুদ্রের অবিচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ চলছে, যার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মৌসুমী পরিবর্তন, কার্বন চক্র এবং এই গ্রহের অন্যতম গভীর বাস্তুতন্ত্রের জীবন পর্যবেক্ষণ করছেন।
দ্বিতীয় স্থানটি হলো Whittard Canyon, উত্তর-পূর্ব আটলান্টিকের বৃহত্তম সামুদ্রিক গিরিখাতগুলির মধ্যে একটি। PAP-SO-এর শান্ত গভীর সমতলভূমির বিপরীতে, এখানে অবিরাম শক্তিশালী পলির প্রবাহ চলাচল করে, যা গভীর সমুদ্রের প্রবাল, চিংড়ি এবং অন্যান্য বিশেষ জীবের জন্য একটি গতিশীল আবাসস্থল তৈরি করে।
একসাথে, এই দুটি স্থান সমুদ্রের একটি শব্দ মানমন্দিরের মতো কাজ করবে।
হাইড্রোফোনগুলি দাঁতযুক্ত তিমি এবং ইকোলোকেশন ব্যবহারকারী অন্যান্য সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের কণ্ঠস্বর, জাহাজের শব্দ, পানির নিচের ভূমিধস এবং টার্বিড প্রবাহ, এবং গভীর সমুদ্রের জীবনের অ্যাকোস্টিক চিত্র তৈরি করা অসংখ্য অন্যান্য শব্দ রেকর্ড করবে।
তবে এই প্রকল্পের তাৎপর্য কেবল আরও একটি সমুদ্রবিদ্যা বিষয়ক অভিযানের বাইরেও বিস্তৃত।
এটি আধুনিক বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।
যদি কিছুদিন আগেও গবেষকরা সমুদ্রের গভীরতা দেখতে চেয়েছিলেন, তবে আজ তারা তা শুনতে শুরু করেছেন।



