উত্তর নিউ মেক্সিকোর সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ফলে সেখানকার মাটি এখনও কালো এবং প্রাণহীন: গাছের কাণ্ডগুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, আর সূর্যের তাপে মাটির তাপমাত্রা ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই মরুভূমির মতো রুক্ষ পরিবেশে গবেষকরা একটি অভিনব ‘কনভেয়র’ পদ্ধতি চালু করেছেন, যা ক্ষুদ্র চারাগাছগুলোকে ঠিক এই ধরণের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে বেঁচে থাকতে শেখায়।
গত বিশ বছরে এই অঙ্গরাজ্যে ৫.৪৫ মিলিয়ন একরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ড ‘কাফ ক্যানিয়ন/হারমিটস পিক’ ৩ লক্ষ ৪১ হাজার একর বনভূমি ধ্বংস করেছে, যার ফলে এমন এক বিস্তীর্ণ জনমানবহীন এলাকা তৈরি হয়েছে যেখানে প্রচণ্ড তাপ, খরা এবং ছায়ার অভাবে সাধারণ চারাগাছগুলো মারা যায়। প্রথাগত নার্সারিগুলোতে চারাগাছগুলো খুব আদর্শ পরিবেশে বেড়ে উঠত, তাই পাহাড়ের রুক্ষ ঢালে রোপণ করার পর সেগুলো প্রকৃতির কঠোর বাস্তবতা সহ্য করতে পারত না।
বর্তমানে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অঙ্গরাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের বিজ্ঞানীরা বীজ সংগ্রহ থেকে শুরু করে চারা রোপণ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ চক্র গড়ে তুলছেন। বসন্তকালে খরা এবং আগুন সহ্য করে টিকে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী গাছগুলো থেকে বীজ সংগ্রহ করা হয়। এই বীজগুলোর অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা এবং জেনেটিক মান পরীক্ষা করার পর নার্সারিতে কৃত্রিমভাবে খরা এবং উচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে রাখা হয়। এই প্রতিকূলতার চাপে চারাগাছগুলো নিজেদের মানিয়ে নেয়; ফলে তাদের শিকড় আরও শক্তিশালী হয় এবং পানির অপচয় রোধ করতে এদের পাতার পরিমাণ কমে যায়।
একই সাথে চারা রোপণের জন্য বিশেষ মানচিত্রও তৈরি করা হচ্ছে। এই মডেলে পাহাড়ের ঢালের কোণ, সূর্যের সাপেক্ষে এর অবস্থান এবং পানি জমে থাকার সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হয়। দক্ষিণ ও পশ্চিমের ঢালে পন্ডেরোসা পাইন বা হলুদ পাইন গাছের চারা বেঁচে থাকার হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে, অথচ খাদের ভেতর বা উত্তরের ঢালে এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ঐতিহাসিকভাবে এসব অঞ্চলে চারা বেঁচে থাকার হার ছিল মাত্র ২৫ শতাংশ; নতুন এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সেই হার বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া বিশেষজ্ঞরা দক্ষিণ অঞ্চল থেকে আসা চিহুয়াহুয়ান পাইনের মতো আরও সহনশীল প্রজাতির গাছ ‘স্থানান্তরের’ কথা ভাবছেন। এই গাছগুলো আগুন এবং দীর্ঘস্থায়ী খরা উভয়ই ভালোভাবে সহ্য করতে পারে, যা পরিস্থিতির বিচারে ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন বীজ সংগ্রহ থেকে চারা তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটি অঙ্গরাজ্যের ভেতরেই সম্পন্ন হচ্ছে, যাতে দীর্ঘ পরিবহনের ধকল চারাগুলোকে অতিরিক্ত দুর্বল করে না ফেলে।
২০২৮ সালের মধ্যে মোরা কাউন্টির এই নতুন কেন্দ্রে বছরে ১০ লক্ষ চারা উৎপাদন করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে ৫০ লক্ষে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এটি ক্রমাগত পুড়ে যাওয়া বনভূমির প্রতি আমাদের যে বিপুল ‘ঋণ’ তৈরি হচ্ছে, তা ধীরে ধীরে শোধ করতে সাহায্য করবে। প্রতিটি সফলভাবে বেড়ে ওঠা চারাগাছ কেবল ভবিষ্যতে ছায়া বা কাঠই দেবে না, বরং এটি আমাদের জলাশয়গুলোকেও রক্ষা করবে যার ওপর পুরো শহরগুলো নির্ভরশীল।
যখন বনভূমি পুনরুদ্ধারের কাজে পুরনো পদ্ধতির বদলে বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতের পরিবর্তনের কথা মাথায় রাখা হয়, তখন সাফল্যের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

