কলম্বিয়ার আন্দিজ পর্বতমালার ছায়াময় কফি বাগানগুলিতে সহজেই এমনটা মনে হতে পারে যে, ঝোপের উপরে গাছ লাগালেই পাখিরা ফিরে আসবে। চারদিক থেকে পাখিদের গান ভেসে আসে, গাছের মুকুটগুলি বহুস্তর বিশিষ্ট আচ্ছাদন তৈরি করে এবং এই ব্যবস্থা ন্যাড়া একফসলি জমির চেয়ে অনেক বেশি প্রাকৃতিক দেখায়। তবে একটি নতুন গবেষণা দেখায়: আশেপাশের অঞ্চলে পর্যাপ্ত বনভূমি না থাকলে এমনকি সেরা খামারগুলিও পাখিশূন্য থেকে যায়।
বিজ্ঞানীরা পূর্ব আন্দিজের কফি বাগান এবং বনভূমি উভয় স্থানেই পাখির গোষ্ঠী নিয়ে গবেষণা করেছেন। তারা বসতি স্থাপন মডেল ব্যবহার করে দেখেছেন যে, পাখির উপস্থিতির প্রধান কারণ কেবল খামারের ছায়া নয়, বরং দুই কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা বনভূমির পরিমাণ। এই সূচকটি বনের বিশেষ প্রজাতি থেকে শুরু করে পতঙ্গভুক ও ফলভুক পাখি পর্যন্ত প্রায় সমস্ত গোষ্ঠীর পাখির উপস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছিল।
অক্ষত বনের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত প্রজাতিগুলো বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। আশেপাশের অঞ্চলে ত্রিশ শতাংশের কম বনভূমি থাকলে তাদের কফি বাগানগুলিতে প্রায় দেখাই যেত না।
উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রায় পঁয়তাল্লিশ শতাংশ বনভূমির প্রয়োজন ছিল। সাধারণ প্রজাতিগুলি ছায়াময় বাগানগুলির সাথে আরও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারত, কিন্তু অত্যন্ত বন উজাড় হওয়া অঞ্চলগুলিতে তাদেরও খামারের মধ্যেই আরও ঘন ও বৈচিত্র্যপূর্ণ আচ্ছাদন খুঁজতে হত।
ঋতুভিত্তিক পরিবর্তনগুলি আরও একটি নতুন মাত্রা যোগ করে। পরিযায়ী পাখিরা যখন আসে, তখন বনভূমি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ সেখানে পাখিরা সংকটময় সময়ে বেশি খাবার ও আশ্রয় খুঁজে পায়। এটি প্রমাণ করে যে, সারা বছর বাসস্থানগুলির বৈচিত্র্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এই ফলাফলগুলি প্রচলিত পদ্ধতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, যেখানে সমস্ত মনোযোগ কেবল খামারের নিজস্ব অনুশীলন — যেমন ছায়াময় কফির শংসাপত্র এবং ছায়া ব্যবস্থাপনার উপর দেওয়া হয়। এই ধরনের পদক্ষেপগুলি সাধারণ প্রজাতির জন্য উপকারী হলেও, পরিবেশে বনভূমি ছাড়া এদের প্রভাব সীমিত। গবেষণাটি উভয় পদ্ধতিকে একত্রিত করার প্রস্তাব করে: সমগ্র অঞ্চল জুড়ে বনভূমি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার করা এবং একই সাথে কফি বাগানগুলিতে পরিবেশের উন্নতি সাধন করা।
পাখিরা পৃথিবীকে বিচ্ছিন্ন অংশে বিভক্ত করে না — তারা এটিকে একটি সংযুক্ত মোজাইক হিসাবে দেখে। তাই কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য একটি একক খামারের সীমানা ছাড়িয়ে বৃহত্তর পরিসরে চিন্তা করা প্রয়োজন।
