কুকুরের মধ্যে বড় হওয়া একটি বিড়ালছানা দত্তক নেওয়ার তিন বছর পরেও স্বাভাবিক মিউ মিউয়ের বদলে ঘেউ ঘেউয়ের মতো শব্দ করতে থাকে। এই আচরণের একটি ভিডিও ইন্টারনেটে প্রকাশিত হওয়ার পর দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং লক্ষ লক্ষ দর্শকের মন জয় করে নেয়।
ফুটেজে দেখা যায়, এখন প্রাপ্তবয়স্ক সেই বিড়ালটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সোফায় চলাফেরা করছে এবং মাঝে মাঝে ছোট, খণ্ডিত শব্দ করছে, যা কুকুরের ঘেউ ঘেউয়ের সঙ্গে খুবই মিল। গৃহকর্ত্রী এই ‘ঘেউ ঘেউয়ের’ প্রতি সাড়া দেন, আর প্রাণীটি স্পষ্টতই মনোযোগ আকর্ষণের জন্য এটি ব্যবহার করে। কুকুর ছাড়া নতুন পরিবারে অনেক দিন বসবাস করেও এই আচরণ টিকে আছে।
এই ধরনের অনুকরণের ব্যাখ্যা মেলে সমাজীকরণের প্রাথমিক পর্যায়ে: বিড়ালছানারা, কুকুরছানাদের মতোই, জীবনের প্রথম কয়েক মাসে আশপাশের শব্দ ও অভ্যাস সক্রিয়ভাবে রপ্ত করে। যদি ছোট্টটি কুকুরের সঙ্গী হয়ে বড় হয়, তবে সে তাদের স্বরধ্বনি আয়ত্ত করতে পারে এবং যোগাযোগের প্রধান উপায় হিসেবে তা ব্যবহার করতে পারে। মিশ্র পরিবারে বড় হওয়া প্রাণীদের পর্যবেক্ষণে এমন ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
গৃহকর্তাদের জন্য এটি কেবল মজার একটি বৈশিষ্ট্য নয়, বরং একটি স্মারক যে পরিবেশ পোষা প্রাণীর চরিত্র গঠনে কতটা গভীর প্রভাব ফেলে। অনেকেই লক্ষ করেন, এমন বিড়াল কুকুরদের সঙ্গে দারুণ মিলেমিশে চলে এবং তাদের সঙ্গ উপভোগ করে, যদিও প্রকৃতিগতভাবে সে বিড়ালই থাকে।
এই গল্পটি দেখায়, গৃহপালিত প্রাণীদের মন কতটা নমনীয় এবং বছরের পর বছর পরেও প্রাথমিক অভিজ্ঞতা আচরণে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে। এই ধরনের ভিডিও আমাদের আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে যে আমাদের পোষা প্রাণীরা কেবল প্রবৃত্তির সমষ্টি নয়, বরং এমন প্রাণী যারা ‘অন্যের’ অভ্যাস গ্রহণ করতে ও ধরে রাখতে সক্ষম।


