মানব স্মৃতি কোনো হার্ড ডিস্কের মতো গঠিত নয়, তাই গিগাবাইটে এর সঠিক পরিমাপ করা অসম্ভব। তবে কিছু অনুমান চমকপ্রদ।
মস্তিষ্কের সম্ভাব্য ধারণক্ষমতা কখনও কখনও আনুমানিকভাবে ধরা হয় 2,5 পেটাবাইট, অর্থাৎ প্রায় 2 500 টেরাবাইট। এদিকে মানুষের মস্তিষ্কে প্রায় 86 বিলিয়ন নিউরন এবং তাদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক সংযোগ রয়েছে।
কর্মস্মৃতি অনেক বেশি সীমিত
আমরা এই মুহূর্তে যে স্মৃতি ব্যবহার করি, তা আশ্চর্যজনকভাবে সীমাবদ্ধ।
আধুনিক গবেষণায় সাধারণত কর্মস্মৃতির পরিমাণ ধরা হয় প্রায় 4 অর্থবহ উপাদান একসঙ্গে।
ঠিক এই কারণেই দীর্ঘ নম্বর আমরা দলে দলে ভাগ করি:
067 – 123 – 45 – 67
এভাবে মস্তিষ্ক আলাদা আলাদা অঙ্ক নয়, বরং কয়েকটি অর্থবহ খণ্ড মনে রাখে।
পুনরাবৃত্তি সত্যিই মস্তিষ্ক বদলে দেয়
তথ্য আরও স্থায়ী স্মৃতিতে পরিণত হওয়ার জন্য নিউরনগুলোর মধ্যকার সংযোগ পরিবর্তিত হয়। এই প্রক্রিয়াটি সম্পর্কিত নিউরোপ্লাস্টিসিটির সঙ্গে।

একটি নির্দিষ্ট নিউরাল নেটওয়ার্ক যত বেশি সক্রিয় হয়, মস্তিষ্কের পক্ষে তা আবার ব্যবহার করা তত সহজ হয়।
তাই প্রথম দেখায় একটি নতুন নাম প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ভুলে যাওয়া যায়, কিন্তু কয়েকবার দেখার পর তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মনে পড়ে।
ঘুম — স্মৃতি ধারণের প্রক্রিয়ার একটি অংশ
আমরা কেবল শেখার সময়েই স্মৃতি দৃঢ় হয় না।
এই প্রক্রিয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঘটে ঘুমের সময়। মস্তিষ্ক দিনের ঘটনাগুলোর সঙ্গে যুক্ত কিছু নিউরাল প্যাটার্ন পুনরায় সক্রিয় করে এবং তথ্যকে দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিতে সংহত করতে সাহায্য করে।
তাই পরীক্ষার আগে ঘুমহীন রাত — পড়াশোনার জন্য আরও কয়েক ঘণ্টা পাওয়ার সেরা উপায় নয়।
সময় জেতা যেতে পারে।
কিন্তু স্মৃতি ধারণে হারিয়ে ফেলা যেতে পারে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: স্মৃতি কোনো নিখুঁত ভিডিও রেকর্ডিং নয়। আমরা যখনই কিছু মনে করি, মস্তিষ্ক ঘটনাটিকে আংশিকভাবে পুনর্গঠন করে, তাই সময়ের সঙ্গে কিছু বিবরণ বদলে যেতে পারে।
তাই সমস্যা সাধারণত মাথায় জায়গা শেষ হয়ে যাওয়া নয়, বরং এই যে, বিশাল সংখ্যক সংযোগের মধ্যে মস্তিষ্ক দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পেতে পারে কি না।




