সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর মন্ত্রী ট্রয় মেইঙ্ক প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছেন যে, দেশটি মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে। মেরিল্যান্ডে আয়োজিত Air, Space and Cyber Conference-এ এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
“আজ আমরা বিবর্তনশীল হুমকি (evolving threats) যেখানেই থাকুক না কেন, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছি,” বলেছেন মেইঙ্ক। “ঠিক এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এখন on-orbit space control weapons রয়েছে, যা শত্রুর বৈরী কর্মকাণ্ড থেকে যৌথ বাহিনীকে রক্ষা করতে সক্ষম।”
অস্ত্রের ধরন, এর কার্যপদ্ধতি বা লক্ষ্য সম্পর্কে মেইঙ্ক কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। এটি মহাকাশের বস্তুকে লক্ষ্য করে কি না, নাকি পৃথিবীর বস্তুকে, তা স্পষ্ট করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার নতুন অ্যান্টি-স্যাটেলাইট অস্ত্র তৈরির বিষয়ে সতর্ক করেছিল, যদিও তখন হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল যে হুমকিটি তাৎক্ষণিক নয়। বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরেই মহাকাশ খাতে রাশিয়া ও চীনের পক্ষ থেকে ঝুঁকির কথা বলে আসছেন, যেখানে মার্কিন অবকাঠামোর একটি বড় অংশ স্যাটেলাইট যোগাযোগের ওপর নির্ভরশীল।
আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, মহাকাশকে কয়েক দশক ধরে শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হতো। মার্কিন সক্ষমতার এই প্রকাশ্য স্বীকৃতি এই ক্ষেত্রে গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, এই বিবৃতিটি সম্ভবত সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের জন্য একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। তবে বিস্তারিত তথ্যের অভাব সংকেত হিসেবে এর কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।
আগামী বছরগুলোতে মহাকাশের স্থিতিশীলতার জন্য এর অর্থ কী?
Space Force-এর প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, “space control”-এর মধ্যে শত্রুর সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলার জন্য কাইনেটিক এবং নন-কাইনেটিক উভয় ধরনের উপায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। CSIS এবং অন্যান্য কেন্দ্রের বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের স্বীকৃতি কক্ষপথে অস্ত্র প্রতিযোগিতা ত্বরান্বিত করতে পারে।
অস্ত্রটি ঠিক কবে কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। মেইঙ্ক মহাকাশ ইন্টারসেপ্টর কর্মসূচিতে দ্রুত অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করেছেন, তবে আবারও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি।

