চ্যাংচুনের একটি মাঠে সাত প্রজাতির শোভাবর্ধক ঘাস পাশাপাশি জন্মেছে, কিন্তু এদের মধ্যে একটি প্রজাতি অন্যগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি কার্বন ধরে রাখে। চীনা বিজ্ঞানীদের এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই পার্থক্যের কারণ শুধু পাতায় নয়, বরং শিকড়ে বসবাসকারী অণুজীবগুলোর প্রকৃতির মধ্যেও নিহিত।
মাটি হলো স্থলভাগের কার্বনের সবচেয়ে বড় আধার, আর উদ্ভিদের শিকড় অঞ্চলই নির্ধারণ করে ঠিক কতটা কার্বন মাটিতে জমা থাকবে এবং কতটা বায়ুমণ্ডলে ফিরে যাবে। চ্যাংচুন বিশ্ববিদ্যালয় এবং নর্থইস্ট নরমাল ইউনিভার্সিটির গবেষকরা হোস্টা, রুডবেকিয়া, গ্যালার্ডিয়া, সেজ এবং অন্যান্য সাধারণ ঘাসের সালোকসংশ্লেষণ, পাতার আয়তন এবং রাইজোস্ফিয়ারিক অণুজীবের গঠন পরিমাপ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে, এমনকি কাছাকাছি প্রজাতির উদ্ভিদের ক্ষেত্রেও দিনের বেলা CO₂ শোষণ এবং রাতে তা ত্যাগ করার হারে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।
মেটাজেনোমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, প্রতিটি উদ্ভিদের রাইজোস্ফিয়ারেই কার্বন পচন এবং স্থিতিকরণের জিন বিদ্যমান। তবে কিছু প্রজাতির অণুজীব গোষ্ঠী শিকড় থেকে নিঃসৃত পদার্থকে মাটির কার্বনের স্থিতিশীল রূপে রূপান্তর করতে বেশি সক্রিয়, যেখানে অন্যরা দ্রুত এটিকে CO₂ হিসেবে ফিরিয়ে দেয়। উদ্ভিদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং অণুজীবের নির্দিষ্ট বিপাকীয় প্রক্রিয়ার মধ্যে একটি পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেছে।
প্রচুর পরিমাণে সেকেন্ডারি মেটাবোলাইট সমৃদ্ধ উদ্ভিদের ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্যটি বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে। এদের শিকড় থেকে নিঃসৃত উপাদানগুলো এমন উপকারী ব্যাকটেরিয়া বেছে নেয়, যা খনিজ-সংশ্লিষ্ট কার্বন গঠনে সহায়তা করে—যা কার্বনের সবচেয়ে স্থিতিশীল রূপ। এর ফলে এই ধরনের উদ্ভিদগুলো মাটিতে আরও নির্ভরযোগ্য একটি 'কার্বন ব্যাংক' তৈরি করতে সক্ষম হয়।
উত্তর-পূর্ব চীনের তৃণভূমি-চেরনোজেম মাটিতে এই গবেষণাটি চালানো হলেও এর ফলাফল অনেক বেশি সুদূরপ্রসারী। শহরের সবুজায়ন এবং প্রাকৃতিক ভূ-দৃশ্য পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ঘাসের সঠিক প্রজাতি নির্বাচন একটি নির্দিষ্ট এলাকা কতটা কার্যকরভাবে কার্বন শোষক হিসেবে কাজ করবে তার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এক্ষেত্রে আমরা কোনো অবাস্তব সংখ্যা নিয়ে কথা বলছি না, বরং এটি এমন এক বাস্তব পার্থক্য যা প্রথম মৌসুমেই পরিমাপ করা সম্ভব।
তাই ফুলের বাগান, পার্ক বা পরিবেশগত প্রকল্পের জন্য গাছ বেছে নেওয়ার সময় কেবল সৌন্দর্য বা সহনশীলতা নয়, বরং শিকড়ের মাধ্যমে তারা মাটিতে কোন ধরনের অণুজীব বন্ধু নিয়ে আসছে তাও বিবেচনা করা উচিত।

