অস্ট্রেলিয়ার সংরক্ষিত অঞ্চলগুলোতে, যেখানে বহিরাগত শিকারিরা দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের হটিয়ে দিয়েছিল, সেখানে পূর্বী কোয়ালরা আবারও বংশবৃদ্ধি করছে। এই ছোট আকারের থলিওয়ালা শিকারি প্রাণীগুলো, যারা একসময় মূল ভূখণ্ডে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত ছিল, তারা অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় আগে সেখান থেকে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। তবে প্রজনন এবং প্রকৃতিতে ফিরিয়ে আনার কর্মসূচিগুলো এখন প্রথম উল্লেখযোগ্য ফলাফল দেখাতে শুরু করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে পূর্বী কোয়াল (Dasyurus viverrinus) কার্যকরীভাবে বিলুপ্ত বলে বিবেচিত হয়, তবে তাসমানিয়ায় এদের বন্য জনসংখ্যা এখনও টিকে আছে। সেখানে বন্দী অবস্থা থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রাণীগুলো বন্য কোয়ালদের সাথে সফলভাবে প্রজনন করছে, যা তাদের জেনেটিক বৈচিত্র্যকে শক্তিশালী করছে। অন্যদিকে, মূল ভূখণ্ডে এই প্রাণীদের শিয়াল এবং বিড়াল থেকে সুরক্ষিত ঘেরা সংরক্ষিত এলাকায় রাখা হয়েছে, যেখানে স্ত্রী কোয়ালরা ইতিমধ্যেই তাদের থলিতে সর্বোচ্চ ছয়টি করে শাবক বহন করছে।
সিডনি চিড়িয়াখানা এবং অন্যান্য কেন্দ্রের সাফল্য দেখায় যে: প্রকৃতিতে ছাড়ার সময় প্রাপ্তবয়স্ক এবং তরুণ প্রাণীদের মিশ্রণ ঘটালে তাদের বংশবৃদ্ধির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। গত কয়েক বছরে কয়েক ডজন কোয়াল ছাড়া হয়েছে এবং নতুন পরিবেশে জন্ম নেওয়া প্রথম প্রজন্মগুলো ইতিমধ্যেই আবির্ভূত হয়েছে। এটি কেবল সংখ্যার বৃদ্ধি নয়, বরং বাস্তুসংস্থানে পতঙ্গ এবং ছোট প্রাণীদের নৈশ শিকারি হিসেবে এই প্রজাতির ভূমিকা পুনরুদ্ধার করা।
প্রধান হুমকিগুলো—যেমন বাইরে থেকে আনা শিকারি প্রাণী এবং আবাসস্থল ধ্বংস—মোকাবিলায় নিয়মিত নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। ঘেরা এলাকাগুলো সাময়িক আশ্রয় দিলেও দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য নির্ভর করে এই ধরনের অঞ্চলের সম্প্রসারণ এবং এর বাইরের প্রকৃতির ওপর চাপ কমানোর ওপর। কোয়ালদের প্রতিটি নতুন প্রজন্ম মনে করিয়ে দেয় যে অস্ট্রেলিয়ার প্রাণিকুলের মধ্যকার বন্ধন কতটা নাজুক।
এই ধরনের প্রকল্পগুলো প্রমাণ করে যে, প্রজনন এবং পুনঃপ্রবর্তনের সুনির্দিষ্ট প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রজাতিগুলোকে তাদের ঐতিহাসিক অঞ্চলে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, যদি সেগুলোকে পরিবেশ সুরক্ষার সাথে সমন্বিত করা হয়।

