দক্ষিণ কোরিয়ায় মানুষের গড় আয়ু ইতিমধ্যেই ৮৩ বছর ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্য খাতে বহুগুণ বেশি ব্যয় করা সত্ত্বেও তা ৭৭ বছরের কাছাকাছি থমকে আছে।

এই পার্থক্যের মূলে নতুন কোনো ওষুধ নেই, বরং নিহিত রয়েছে রোগ প্রতিরোধের পদ্ধতিগত ব্যবস্থা এবং কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা দৈনন্দিন অভ্যাসের মধ্যে।
১৯৬০-এর দশকের পর থেকে সিউল একটি সর্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিনিয়োগ শুরু করে, যেখানে জটিল রোগের চিকিৎসার চেয়ে রোগ আগেভাগে শনাক্ত করার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য নিয়মিত বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা একটি স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে, যা গত দুই দশকে হৃদরোগ এবং ক্যান্সারে মৃত্যুহার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিয়ে আনতে সাহায্য করেছে।
খাদ্যাভ্যাসও এখানে সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে: প্রচুর শাকসবজি, গাঁজানো খাবার এবং মাছ সমৃদ্ধ ঐতিহ্যবাহী খাবার শরীরকে কম স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং বেশি ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী কোরীয়রা সমবয়সী আমেরিকানদের তুলনায় গড়ে দ্বিগুণ পরিমাণ সবজি খেয়ে থাকেন।
তাদের সামাজিক কাঠামোও দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। পারিবারিক এবং পাড়া-প্রতিবেশীদের সাথে দৃঢ় বন্ধন দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কমায়, যা কাটিয়ে উঠতে আমেরিকায় প্রায়শই ওষুধের ওপর নির্ভর করতে হয়। কোরিয়ায় প্রবীণরা খুব কমই একাকী জীবনযাপন করেন এবং এর সরাসরি প্রভাবে সেখানে বিষণ্ণতা ও স্মৃতিভ্রমের হার অনেক কম।
আমেরিকান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উচিত নির্দিষ্ট কোনো 'সুপারফুড'-এর পেছনে না ছুটে বরং দৈনন্দিন জীবনে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে একীভূত করা এবং বীমা সংক্রান্ত জটিলতা ছাড়াই প্রাথমিক চিকিৎসা সহজলভ্য করার দিকে মনোযোগ দেওয়া। মূলত জিনগত কারণ নয়, বরং এই বিষয়গুলোই দুই দেশের মানুষের গড় আয়ুর বিশাল ব্যবধানের কারণ ব্যাখ্যা করে।
যদি আমেরিকা রোগ আগেভাগে শনাক্তকরণ এবং সামাজিক সহযোগিতার এই কোরীয় মডেলটি গ্রহণ করতে পারে, তবে এর ফলাফল যেকোনো নতুন ওষুধের কার্যকারিতার চেয়েও অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।




